রইস উদ্দিন হত্যার বিচারের দাবিতে প্রেসক্লাবে মানববন্ধন

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ রইস উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের এক বছর অতিবাহিত হলেও মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামিও গ্রেপ্তার না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশের মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিচারপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
আরও পড়ুন: তীব্র গরমের পর রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি
ইসলামী ফ্রন্টের সাংগঠনিক সচিব ও সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট কাজী মোহাম্মদ ইসলাম উদ্দীন দুলালের সভাপতিত্বে ও নগর সিনিয়র সহ সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাকিমের সঞ্চালনায় স্মারকলিপি প্রদানের পূর্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দারাবাদ এলাকায় এক ভয়াবহ ‘মব ভায়োলেন্স’-এর শিকার হন মাওলানা রইস উদ্দিন। একটি সাজানো ও মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁকে গাছের সাথে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও অনলাইনে প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও আসামিদের পরিচয় জনসমক্ষে থাকলেও এক বছরেও কাউকে গ্রেপ্তার না করা আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব অধ্যক্ষ স উ ম আব্দুস সামাদ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয় যে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তদন্ত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন এবং অপরাধীদের সুরক্ষা দিচ্ছেন। উল্টো এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও থানায় দায়েরকৃত মামলাগুলোর মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলছে।
প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান পূর্ববর্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জননেতা অধ্যক্ষ মাওলানা স উ ম আব্দুস সামাদ বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের সংকট সৃষ্টি হবে। বক্তারা, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, শহীদ রইস উদ্দিন হত্যাকান্ডের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা আবু সুফিয়ান খান আবেদী আল কাদরী। ইসলামী ফ্রন্টের নেতা গোলাম মাহমুদ ভূইয়া মানিক, কাজী জসিম উদ্দীন সিদ্দিকী আশরাফী, পীর ওয়ালি উল্লাহ আশেকী আলকাদেরী, পীর মুফতি গিয়াস উদ্দীন তাহেরী, এডভোকেট ইকবাল হাছান, মনজুর আহমদ রেফায়ী, গাজী এম কে মোবারক, মুফতি ইকবাল হোসেন আল কাদরী, শাইখ মহিউদ্দীন হামেদী, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এম সরওয়ার ও আবু নাসের মোহাম্মদ মুসা
মুফতি গোলাম রব্বানী কাসেমী, এনাম রেজা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আজাদ হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, এইচ এম আহসান উল্লাহ, সাংবাদিক গাজী জাহাঙ্গীর আলম জাবির, আলমগীর হোসেন যুক্তিবাদী, কাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন নুরী, মাও. ফরহাদুল ইসলাম বুলবুললি, কাজী মো. তৈয়ব আলী, আলমগীর ইসলাম বঈদী, আনোয়ার হোসেন, মাও. ইদ্রিস আহমদ আল কাদরী, মাও. আমিনুল ইসলাম ওয়ালী, মারুফ বিল্লাহ আশেকী, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম কাজল, নাসির উদ্দীন মাহমুদ, মো. মোশাররফ হোসেন শহীদুল, মশিউর রহমান, মোহাম্মদ মাসউদ হোসাইন, হাফেজ মোহাম্মদ ওমর ফারুক, দিদার খান রাকিব, হাফেজ জাবের হোসাইন, আহমদ রেজা সবুজ প্রমুখ।
বিজ্ঞাপন
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো হলো:
১. মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
২. এজাহারভুক্ত ১৭ জন নামীয় আসামিসহ সকল অজ্ঞাতনামা অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
৩. ডিজিটাল প্রমাণ (ভিডিও ফুটেজ) ভিত্তি করে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৪. দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. ভিকটিম পরিবারকে যথাযথ নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
৬. সারাদেশে ‘মব ভায়োলেন্স’ প্রতিরোধে কঠোর আইন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৭. বিচারপ্রার্থী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত পাঁচলাইশ থানার মামলা নং- ৩(৫)২০২৫ এবং চান্দগাঁও থানার মামলা নং- ৮(৫)২০২৫ সহ সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
স্মারকলিপিতে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে স উ ম আব্দুস সামাদ বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হবে এবং দেশে ‘মব সন্ত্রাস’ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তাঁরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। পরে মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বিজ্ঞাপন








