নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে সহকারী শিক্ষক প্রার্থীদের বিক্ষোভ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগ ও পদায়ন না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন হাজারো প্রার্থী। তাদের দাবির পক্ষে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন নিয়োগ প্রত্যাশীরা।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা এক হাজারের বেশি প্রার্থী অংশ নেন। শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়ে তারা দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদানের দাবি জানান।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। নিয়োগ ও পদায়নের নিশ্চয়তা পেলেই কেবল তারা এই অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১০ দিনের সময়সীমা দিলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সরাসরি আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন প্রার্থীরা।
প্রার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। ফল প্রকাশের পর নিয়ম অনুসারে তারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেন। কিন্তু আড়াই মাস পার হয়ে গেলেও এখনো নিয়োগপত্র হাতে পাননি তারা।
এই বিলম্বের কারণে অনেকেই চরম বিপাকে পড়েছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, নিয়োগের আশায় অনেকে পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে তারা পরিবারসহ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। পাশাপাশি দীর্ঘসূত্রতায় মানসিক চাপও বেড়ে চলেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, গত ২২ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
আরও পড়ুন: দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শাহরিয়ার কবির নিহত
তাদের মতে, গত ১ মার্চের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সনদ যাচাইসহ সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এরপরও নিয়োগপত্র না দেওয়া প্রশাসনিক অবহেলা বলেই মনে করছেন তারা। বিষয়টি তুলে ধরতে এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করলেও তাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
বিজ্ঞাপন
অবস্থান কর্মসূচি থেকে আন্দোলনকারীরা জানান, এটি তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াই। সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তারা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।








