Logo

জ্বালানি সংকটে উধাও ২০ শতাংশ বাস, ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:৪৮
জ্বালানি সংকটে উধাও ২০ শতাংশ বাস, ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহন সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। সড়কে বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় প্রতিদিনই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যাওয়ার মতো পরিবহন পাচ্ছেন না নগরবাসী।

বিজ্ঞাপন

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে দেখা যায়, বিভিন্ন গন্তব্যের অসংখ্য মানুষ বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। যেসব বাস আসছে, সেগুলো যাত্রীতে পূর্ণ থাকায় অধিকাংশ মানুষ উঠতে পারছেন না। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে পরবর্তী বাসের অপেক্ষায় থেকে যাচ্ছেন।

একজন যাত্রী জানান, আগের মতো একসঙ্গে একাধিক বাস দেখা যায় না। যেখানে আগে একই রুটে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি বাস চলাচল করত, এখন সেখানে ২-৩টির বেশি বাস চোখে পড়ে না। কখনো কখনো দীর্ঘ সময় ধরে একটি বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা যাতায়াতকে আরও কষ্টকর করে তুলছে।

বিজ্ঞাপন

একই চিত্র দেখা গেছে বাংলামোটর মোড়েও। সন্ধ্যার দিকে ওই এলাকায় হাতেগোনা কয়েকটি বাস চলাচল করতে দেখা যায়, আর সড়কের বড় অংশই প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের উপস্থিতি থাকলেও গণপরিবহনের সংকট স্পষ্ট।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডিজেল সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় বাসচালকদের দিনের বড় একটি সময় নষ্ট হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সংখ্যক ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা সরাসরি সড়কে বাসের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে।

একজন বাসচালক জানান, প্রতিদিন তেল নিতে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। এই সময়টুকুতে অন্তত একটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হলেও তা করা যাচ্ছে না। ফলে যাত্রীসেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পরিবহন মালিকদের মতে, আগে একটি বাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে একাধিক ট্রিপ দেওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় প্রতিটি বাসের ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক পাম্প ঘুরেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার বাস চলাচল করে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বাস সড়কে নামছে না, যা সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

এ অবস্থায় যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা গণপরিবহন খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, ব্যক্তিগত যানবাহনের তুলনায় বাসের জ্বালানি চাহিদা বেশি এবং এগুলো সরাসরি জনসেবার সঙ্গে যুক্ত। তাই বাসগুলোকে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার না দিলে সংকট আরও বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝোঁকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৩০ শতাংশ যানবাহন বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এখন থেকেই অবকাঠামো উন্নয়ন, চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সাময়িক সমাধান হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত বাস সড়কে নামানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এতে করে গণপরিবহনের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি সংকটের প্রভাব রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও তীব্র হয়ে জনজীবনে বড় ধরনের দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD