দাম বাড়লেও থামেনি ভিড়, রাজধানীর পাম্পে এখনও দীর্ঘ লাইন

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশে নতুন করে তেলের দাম সমন্বয় করা হলেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে কমেনি ভিড়। বরং আগের মতোই গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে বিভিন্ন পাম্পে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর-১৪, মহাখালী, রমনা ও মতিঝিল এলাকার একাধিক পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন এখনো স্বাভাবিক চিত্রে পরিণত হয়েছে।
রমনার একটি পাম্পে প্রাইভেটকার ও গণপরিবহনের চাপ বেশি থাকলেও মোটরসাইকেলের সংখ্যা তুলনামূলক কম দেখা গেছে। অন্যদিকে মতিঝিলের একটি ফিলিং স্টেশনে নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল দেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় একটি পাম্পে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
তেলের দাম বাড়লেও অনেক চালক মনে করছেন, এতে অপেক্ষার সময় কমতে পারে। কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে বেশি দামে দ্রুত তেল পাওয়া তাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।
একজন বাসচালক জানান, আগে দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এখন দাম বাড়লেও যদি সেই ভোগান্তি কমে, সেটিই স্বস্তির। অন্যদিকে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, জীবিকার প্রয়োজনে নিয়মিত তেল প্রয়োজন, তাই দামের চেয়ে সরবরাহ নিশ্চিত হওয়াটাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা, যা এখন লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা। এছাড়া কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩০ টাকা।
এর আগে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারিতেও জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দাম সমন্বয়ের পরও সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় পাম্পগুলোতে চাপ কমেনি। ফলে ভোক্তাদের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল করা এবং ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।








