ঢাকাকে বাসযোগ্য করার মহাপরিকল্পনা জানালেন রাজউক চেয়ারম্যান

রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে পরিণত করতে নির্মাণ কার্যক্রম থেকে সৃষ্ট দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণ খাতে পরিবেশ সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানিয়েছেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি এক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ ও নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নির্দেশ দেন, রাজধানীতে চলমান সব নির্মাণ প্রকল্পে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ২০২০ এবং ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এর পরপরই রাজউক মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশেষ টিম গঠনের উদ্যোগ নেয়।
রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় অনেক নির্মাণকাজ যথাযথ নিয়ম না মেনে পরিচালিত হওয়ায় ধূলা ও শব্দ দূষণ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকার বায়ুমান সূচক (AQI) প্রায় ১৯৯ পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর মাত্রা হিসেবে বিবেচিত। এর একটি বড় অংশের জন্য নির্মাণস্থল থেকে ছড়ানো ধূলিকণা দায়ী।
তিনি আরও বলেন, ড্রিলিং, পাইলিং ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট শব্দ অনেক সময় আবাসিক এলাকার নির্ধারিত মাত্রা অতিক্রম করে। এটি মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নির্মাণ কার্যক্রমকে পরিবেশসম্মত রাখতে রাজউক বেশ কিছু বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— নির্মাণস্থলের চারপাশে সুরক্ষাবেষ্টনী বা নেট দিয়ে ঘিরে রাখা; বালি, সিমেন্ট ও ইটের মতো উপকরণ ঢেকে রাখা; নিয়মিত পানি ছিটিয়ে ধূলা নিয়ন্ত্রণ করা; নির্মাণ বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করা; শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করা; আবাসিক এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে শব্দ সৃষ্টিকারী কাজ বন্ধ রাখা এবং ভবন নির্মাণ শেষে রাজউকের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ বা অন্যান্য সংযোগ না দেওয়া।
বিজ্ঞাপন
রাজউক জানিয়েছে, নির্মাণ সংক্রান্ত বিধি ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন নির্মাণস্থল অনলাইনে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম প্রয়োজনীয় হলেও তা যেন মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়। তিনি নগরবাসী ও নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের আইন মেনে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্মাণ দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকার বায়ুমান উন্নত হবে এবং নগরবাসীর জন্য একটি স্বাস্থ্যকর নগর পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।








