ধোলাইখালে ফুটপাত দখল উচ্ছেদে ডিএমপির অভিযান

রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সড়কের পাশে অবৈধভাবে বিস্তৃত দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশ সরিয়ে নিতে বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
ডিএমপির লালবাগ জোনের উদ্যোগে ধোলাইখাল তিন রাস্তার মোড় থেকে অভিযান শুরু করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ডিএমপির স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান। অভিযানের শুরুতেই দেখা যায়, এলাকার বিভিন্ন মোটর গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপের সামনে ত্রিপল টানিয়ে রাখা হয়েছে এবং ফুটপাত জুড়ে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরনের মালামাল ও যন্ত্রাংশ। কোথাও আবার ফুটপাতের ওপর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে গাড়ির বিভিন্ন অংশ।
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত এসব সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি ব্যবসায়ীদের দ্রুত অবৈধ স্থাপনা ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন, যাতে পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।
বিজ্ঞাপন
অভিযানের সময় সড়কের ওপর একটি গাড়ি রেখে মেরামতের কাজ চালানোর অভিযোগে সেটি ডাম্পিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে রাখা অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ ও মালামাল জব্দের নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজেদের নির্ধারিত সীমানার বাইরে ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্টুরেন্ট, মোটরগাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং শপ, পোশাক ও আসবাবপত্রের দোকানসহ নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রেস্টুরেন্টগুলো ফুটপাতের ওপর রান্নার চুলা, হাঁড়িপাতিল, গ্রিল বা কাবাব তৈরির সরঞ্জাম বসিয়ে দেয়। একইভাবে মোটর ওয়ার্কশপগুলো পুরনো-নতুন টায়ার, যন্ত্রাংশ এবং মেরামতের সরঞ্জাম ফুটপাত ও সড়কে রেখে কাজ করে। ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপের খুচরা মালামাল, পোশাকের দোকানের প্রদর্শনী সামগ্রী এবং আসবাবপত্রের দোকানের ফার্নিচারও ফুটপাত দখল করে রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপ বা যন্ত্রাংশের দোকানগুলো অনেক সময় সড়কের একটি লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করে থাকে, যা যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ফলে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। বাধ্য হয়ে অনেকেই সড়কে নেমে চলাচল করেন, যার ফলে যানজট আরও বৃদ্ধি পায়।
এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিএমপি জানিয়েছে, স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই অভিযানের মাধ্যমে রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন








