Logo

রাজধানীতে ছিনতাইকারীর কবলে পুলিশ সুপার, হারালেন ব্যাগ-মোবাইল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মে, ২০২৬, ২২:০৮
রাজধানীতে ছিনতাইকারীর কবলে পুলিশ সুপার, হারালেন ব্যাগ-মোবাইল
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

রাজধানীতে মোটরসাইকেলচালিত ছিনতাই চক্রের তৎপরতায় এবার ভুক্তভোগী হয়েছেন একজন পুলিশ কর্মকর্তাও। তিনি হলেন- পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা ইয়াসমিন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সুপার শামীমা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তিনি ধানমন্ডি থানায় যান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৯ মে) রাতে ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন এসপি শামীমা ইয়াসমিন। পথে একটি কালো মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ব্যাগের সঙ্গে মোবাইল ফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীও খোয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১১ মে) ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে তিন ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানায় যান তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের কাছে তিনি জানান, অভিযানে উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলোর মধ্যে তার ফোন রয়েছে কি না, সেটি দেখতে এসেছেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার ভোরে ধানমন্ডি ২৭ এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে ছিনতাইয়ের সময় সন্দেহভাজন একটি চক্রকে ধাওয়া করে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা দ্রুত মোহাম্মদপুরের দিকে পালানোর চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে টাউন হল এলাকায় পৌঁছালে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায় বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে চক্রের এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযানস্থল থেকে ধারালো অস্ত্র, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, খেলনা পিস্তল এবং ছিনতাই করা ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন পলাশ, সাকিব ও বিপ্লব হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, পলাশ ও সাকিব আপন দুই ভাই এবং তাদের বাড়ি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায়। বিপ্লব হোসেন তাদের বোন জামাই।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি ‘পারিবারিক ছিনতাই চক্র’, যারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশার যাত্রী ও পথচারীদের টার্গেট করত।

এ বিষয়ে মীর আসাদুজ্জামান জানান, চক্রটিতে মোট পাঁচজন সদস্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের ধরতে রাতভর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয় এবং তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্তের কাজ চলছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD