Logo

এআই ক্যামেরায় ট্রাফিক নজরদারি, সপ্তাহেই তিন শতাধিক মামলা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মে, ২০২৬, ১৮:৪১
এআই ক্যামেরায় ট্রাফিক নজরদারি, সপ্তাহেই তিন শতাধিক মামলা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এই প্রযুক্তির আওতায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনায় মাত্র এক সপ্তাহেই তিন শতাধিক ডিজিটাল মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর এয়ারপোর্ট সড়ক এলাকায় নতুন ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়কে কোনো যানবাহন সিগন্যাল অমান্য করলে, উল্টো পথে চলাচল করলে কিংবা নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মামলা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি চাইলে ভিডিও ফুটেজে নিজের অপরাধও দেখতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যানজট কমানো। বর্তমানে রাজধানীর আটটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল ও নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০টি পয়েন্টে এই প্রযুক্তি বিস্তৃত করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে ডিএমপির পক্ষ থেকে জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে উন্নত প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের নানা ঘটনা শনাক্ত করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রেজিস্ট্রেশনবিহীন বা ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, অবৈধ পার্কিং, লালবাতি অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং লেফট লেন দখলের মতো অপরাধের ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করা হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকের ঠিকানায় ডাকযোগে অটো-জেনারেটেড নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নোটিশ পাওয়ার পর অভিযুক্তদের ডিএমপি সদর দপ্তর অথবা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে উপস্থিত হয়ে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে।

ডিএমপি আরও জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পরও কেউ নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে সমন কিংবা গ্রেফতারি পরোয়ানার কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সিসিটিভি ক্যামেরা বা ভিডিও মামলার নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে নগরবাসীকে পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি। কোনো ব্যক্তি বা চক্র যদি মামলার নামে অর্থ দাবি করে বা ব্যক্তিগত তথ্য চায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিএমপির দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর এই ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি মামলা হতে পারে। তবে এর মাধ্যমে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD