তিন বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প, দুর্ভোগে ডিএনসিসি’র বাসিন্দারা

রাজধানী ঢাকাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার নানা পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তব চিত্র এখনো অনেকটাই ভিন্ন। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনর (ডিএনসিসি) নতুন যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোতে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২০২২ সালে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষায় কাদাপানি ও জলাবদ্ধতায় জনজীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ।
দক্ষিণখান এলাকার বেশ কয়েকটি সড়কে দেখা গেছে অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়কে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই অবস্থা বিরাজ করলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
বিজ্ঞাপন
এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে রয়েছে স্কুল-কলেজ, মসজিদ এবং গণকবরস্থান। কিছু দূরেই দক্ষিণখান থানা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এসব সড়ক ব্যবহার করলেও দুর্ভোগ যেন কমছেই না।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টি হলেই রাস্তা পানির নিচে চলে যায়। চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগান্তির মধ্যে আছেন বলেও জানান তিনি।
এয়ারপোর্ট সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বাউনিয়া এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০১৬ সালে এই এলাকাটি সিটি কর্পোরেশনর আওতায় এলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখনো দৃশ্যমান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিজ্ঞাপন
সারা বছরই কোথাও না কোথাও সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলাবদ্ধতার সমস্যা। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ডিএনসিসির নতুন অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণখান, উত্তরখানসহ ১৮টি ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ২০২২ সালে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে তিন বছর পার হলেও প্রকল্পের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
এ কারণে নতুন ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন কাজ ধীরগতিতে চলায় ভোগান্তি কমার বদলে অনেক ক্ষেত্রে আরও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
উন্নয়ন কাজের ধীরগতির বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, কাজের গতি সবসময় সন্তোষজনক নয়—এ বিষয়টি তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন রয়েছে এবং অর্থ সংকটের কারণেই কিছু কাজ বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত হলে চলমান সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান হবে।
বিজ্ঞাপন
ডিএনসিসির প্রশাসক আরও বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। এজন্য তিনি হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য রাজস্ব নিয়মিত পরিশোধের আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে রাজধানীর নতুন এলাকাগুলোতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। তাই দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।








