‘চট্টগ্রাম বন্দর ইহুদীবাদী ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে’

চট্টগ্রাম বন্দরের অত্যাধুনিক নিউমুরিং টারমিনালকে ইহুদীবাদী কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে ইনসাফকায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১২ জুন) বাদ জুমুয়া রাজধানীর মালিবাগ মোড়ের ফালইয়াফরাহু চত্বরে এক বিশাল সমাবেশে তারা এ আহ্বান জানায়। চট্টগ্রাম বন্দর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করে তারা দাবি জানায় যে, এ দেশবিরোধী চুক্তির কাজ শুরু করার জন্য গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস, বিডার চেয়ারম্যান আশিক বিন হারুন এবং বন্দরের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে বিচার করা হোক।
সমাবেশে সংগঠনের সদস্য সচিব আল্লামা কাজী আহমাদ বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড আরব আমিরাতের একটি কোম্পানি। আর আরব আমিরাত ইসরাইল ও আমেরিকার সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ড চুক্তিতে সই করেছে। যার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে আরব আমিরাত কাজ করছে। সেই আরব আমিরাত বাংলাদেশে এসে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাজ করবে, এটি নিশ্চিত।
বিজ্ঞাপন
তাছাড়া ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রধান সুলতান সুলায়েম কুখ্যাত শিশু নিপীড়ক ইহুদি জেফরি এপস্টাইনের সহযোগী। ইহুদি নেটওয়ার্কে থাকার কারণে ডিপি ওয়ার্ল্ড ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থের বিরুদ্ধে সব সময় সক্রিয়। বর্তমানে আফ্রিকার সোমালিল্যান্ডের বারবারা বন্দর ডিপি ওয়ার্ল্ড পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, ওই বন্দরের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র আসে এবং সেই অস্ত্র ব্যবহার করে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে, ফলে আফ্রিকার বিরাট অংশ অস্থিতিশীল হয়ে রয়েছে। বক্তাগণ বলেন, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরও ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে গেলে বাংলাদেশও একইরূপ অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংগঠনটির আহবায়ক আরিফ আল খবির বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টারমিনাল একটি অত্যাধুনিক ও লাভজনক বন্দর। একটি লাভজনক ও সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠান কোনো বিবেকবান লোক ইজারা দিতে পারে না। মূলত এর পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি জড়িত, যেখানে বাংলাদেশকে চীনের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করতে চাওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বক্তাগণ আরও বলেন, সম্প্রতি ইরান-আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি দেশগুলোর করুণ অবস্থা আমরা অবলোকন করেছি। বাংলাদেশেরও আমেরিকার প্রক্সি হয়ে করুণ পরিণতি হোক, তা আমরা চাই না।
সমাবেশে বক্তাগণ ৬ টি দাবি তুলে ধরেন-
বিজ্ঞাপন
১. চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশীদের কাছে ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে,
২. এপিএম টার্মিনালসের সাথে বন্দরের লালদিয়া টার্মিনাল চুক্তি এবং মেডলগের সাথে পানগাঁও টার্মিনাল চুক্তি বাতিল করতে হবে,
৩. চট্টগ্রাম বন্দরের সকল টার্মিনাল দেশীয় অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
৪. পলাশবাড়িতে উস্কানিমূলক রামমূর্তিসহ দেশের অখণ্ডতার স্বার্থে উক্ত জায়গায় বিধর্মীদের কোনো স্থাপনা রাখা যাবে না,
৫. বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে র্যাবিস বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই অবিলম্বে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করতে হবে,
৬. বিশ্বকাপ উন্মাদনা মুসলমানদের দ্বীনহীন করার ষড়যন্ত্র। আর্জেন্টিনা ইসরাইলের সমর্থক রাষ্ট্র, আর ব্রাজিল সমকামিতা ও পতিতাবৃত্তিকে বৈধ করা দুশ্চরিত্রদের রাষ্ট্র। বাংলাদেশের আকাশে এসব ভিনদেশি রাষ্ট্রের কোনো পতাকা উড়ানো যাবে না।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে ইনসাফকায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার প্রায় ১ হাজার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।








