মধ্যরাতে রাড্ডা ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় যা জানা গেল

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর তদন্ত শুরু করেছে শাহ আলী থানা-পুলিশ। তবে এই ঘটনার পরবর্তী সময়ে চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি সেন্টারটিতে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করেন বলে প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। লুটপাটের পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ডও টাঙানো হয় বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পরদিন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, ভাঙচুরের পাশাপাশি ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ অর্থ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করা হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ টাকা, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার এবং বিভিন্ন ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে মিরপুরের নিম্নআয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ ও শিশুসেবা এবং সরকারি টিকাদান কর্মসূচির সেবা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জমির মালিকানা নিয়ে অবশ্য দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি রয়েছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলছে, উচ্ছেদ বা জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে তারা আগে কোনো সরকারি নোটিশ পায়নি। অন্যদিকে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জমিটি তাদের নামে বরাদ্দ ও নিবন্ধিত রয়েছে এবং উচ্ছেদের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চিঠিও ছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে জমিটি দখল নিয়ে বিরোধের কথা স্থানীয় সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। মামলায় নাম থাকা হানিফ মিয়া অবশ্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, পাশাপাশি জমির মালিকানা ও উচ্ছেদের দাবির পক্ষে কী ধরনের নথি রয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সর্বশেষ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।








