Logo

ডিএসসিসিতে ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ শুরু

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৪৯
ডিএসসিসিতে ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ শুরু
ছবি প্রতিনিধি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ শুরু হয়েছে। তথ্যনির্ভর মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এ জরিপ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নগর ভবনে এ জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

চলমান এ জরিপ গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। জরিপের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ৩০টি করে বাড়ি নির্বাচন করা হয়েছে। এভাবে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

জরিপের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলের কোথায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বেশি এবং লার্ভার প্রধান উৎসগুলো কী, তা চিহ্নিত করা হবে। পরবর্তী সময়ে এসব তথ্যের ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ জরিপে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মোট ৭২ জন মাঠকর্মী অংশ নিচ্ছেন। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। জরিপ শেষে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটু সূচক, হাউস সূচক, কনটেইনার সূচক এবং পিউপা সূচক নির্ধারণ করা হবে।

ব্রেটু সূচকের ভিত্তিতে জরিপের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোকে তিন ধরনের ঝুঁকিতে ভাগ করা হবে। যেসব এলাকায় ব্রেটু সূচক ২০ বা তার বেশি হবে, সেগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। সূচক ১০ থেকে ১৯ হলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০-এর নিচে হলে সাধারণ ঝুঁকির এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে চিহ্নিত হটস্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ কর্মসূচিসহ মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে এসব এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

জরিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ জরিপের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র পাওয়া যাবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, প্রাক-বর্ষা জরিপে দেখা গেছে, বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের স্থানে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকরা এগিয়ে এলেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, এর আগে পরিচালিত বর্ষাপূর্ব জরিপে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩টি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছিল। ওই জরিপের ভিত্তিতে ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্র্যাশ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD