Logo

জিরানী খাল পরিদর্শনে দুই প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৩৭
জিরানী খাল পরিদর্শনে দুই প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসক
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার চারপাশের নদী দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নগরীর খালগুলো পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৫টি খালের দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নন্দীপাড়া এলাকায় জিরানী খাল পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

পরিদর্শনে তার সঙ্গে ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

মীর শাহে আলম বলেন, ডিএসসিসির ২৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৯টি খালের দুই পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে খালের অবৈধ দখল ঠেকানোর পাশাপাশি নগরবাসীর চলাচল ও বিনোদনের সুযোগ বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ঢাকা মহানগরীর পয়ঃবর্জ্য শোধন করে নদীতে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একদিনেই দেশকে সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়া বানিয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। বাস্তবতাকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে চাই।’

নদী-খাল রক্ষা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত, কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন প্রতিমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের নতুন যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। তবে সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় সামগ্রিক উন্নয়নে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন।

জিরানী খাল প্রকল্পের অগ্রগতি

৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ জিরানী খালের প্রস্থ ৪ থেকে ২৫ মিটার। ‘ডিএসসিসির কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় খালটি সংস্কার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ৭০ শতাংশ সরকারি অর্থায়ন এবং ৩০ শতাংশ ডিএসসিসির অর্থায়ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ডিএসসিসি।

২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে মান্ডা খালের কাজ এগিয়েছে ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিরানী খালের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, কালুনগর খালের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুর খালের ২ দশমিক ০৫ শতাংশ।

প্রকল্পের আওতায় চারটি খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণ, সীমানা নির্ধারণ, স্লোপ প্রটেকশন, ৩২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮ দশমিক ০৬ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়ন এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আটটি ইটিপি নির্মাণ করা হবে। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ১৪৯টি এবং পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী ১ হাজার ৫৯০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে খালের সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অচল কালভার্ট অপসারণ, পর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনীয় জমির সীমিত প্রাপ্যতাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD