অসীম ত্যাগ আর রক্তে গাঁথা জিয়া পরিবারের অবিচল পথচলা

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থেকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং পরে তারেক রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া—জিয়া পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় এসেছে নানা উত্থান-পতন, সংঘাত ও পরিবর্তন।
বিজ্ঞাপন
২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রথম বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮১ সালে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর বিএনপির রাজনীতিতে খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি একাধিকবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি জিয়া পরিবারের ওপর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সংকটও আসে। খালেদা জিয়ার কারাবাস, তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবন এবং আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
তারেক রহমান দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বার্থ ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়।
জাতিসংঘে তারেক রহমানের বক্তব্যকে তাঁর পরিবারের আগের দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে মূল্যায়ন রাজনৈতিক দল ও সমর্থকদের মধ্যে ভিন্ন। পরিবারের সমর্থকেরা এটিকে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলো বিভিন্ন সময় তাদের ভূমিকা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে।
২০২৬ সালের জাতিসংঘ সফরের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের একটি নতুন অধ্যায় সামনে এসেছে। পাঁচ দিনের সফর শেষে তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকায় ফেরেন।








