Logo

বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:১৪
বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার-বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন। সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তোলা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য দেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাংলাদেশে রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। তৈরি পোশাক ও উৎপাদন খাতে দেশের অবস্থানের পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও বিধিবিধান সরল করা, বিনিয়োগ সুরক্ষা জোরদার, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কথা জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তার মতে, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি রেফারেন্স পয়েন্ট তৈরি হয়েছে এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিনিয়োগকারীরা কোনো বক্তব্যের চেয়ে বাস্তবে নীতির প্রয়োগ, বিধিবিধানের পূর্বানুমেয়তা, বিনিয়োগের সুরক্ষা, মূলধন স্থানান্তর এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগকে গুরুত্ব দেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নীতি এবং তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করবেন এবং তাদের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল- আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব।’

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে, আপনাদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে আমরা প্রস্তুত। আশা করি, আপনাদের অনেককেই শিগগিরই বাংলাদেশে দেখতে পাবো।’

তথ্য সূত্র : বাসস

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD