জিয়াউলের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরুর আবেদন প্রসিকিউশনের

আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করার আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চে এই আবেদন উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শুনানিকালে চিফ প্রসিকিউটর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ বিস্তারিতভাবে পাঠ করে শোনান। অভিযোগগুলোতে ১০৩ জনকে গুম ও হত্যার ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব ঘটনার পক্ষে ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রামাণ্য উপাদানও তাদের কাছে রয়েছে। শুনানি শেষে মামলার একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানানো হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে এ সময় চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী ও সহিদুল ইসলাম সরদার।
আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জিয়াউল আহসানের বোন ও আইনজীবী নাজনীন নাহার। তিনি প্রসিকিউশনের কাছে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজ সরবরাহের দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
জবাবে প্রসিকিউশন জানায়, ভিডিওগুলো ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিলের পর প্রতিরক্ষাপক্ষকে সরবরাহ করা হবে। আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, সব নথি ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে তিনি তার মক্কেলের অব্যাহতির আবেদন করবেন। এ বিষয়ে আগামী ৮ জানুয়ারি শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে রবিবার সকালে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে পুলিশি পাহারায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। দুপুরের পর মামলার মূল শুনানি শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তার আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আদালত আমলে নেয়। একই দিনে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
জিয়াউল আহসান সর্বশেষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।








