Logo

আবু সাঈদ হত্যা : দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:১০
আবু সাঈদ হত্যা : দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা
শহীদ আবু সাঈদ | ফাইল ছবি

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বহুল আলোচিত এ মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায়ে বলা হয়, মামলার দুই আসামি—রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

রায়ে আরও দেখা যায়, মামলার মোট ৩০ আসামির মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে ১০ বছর, ১২ বছর, ৫ বছর এবং ৩ বছর মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বেরোবি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান (বেল্টু), গণিত বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান ও তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।

এছাড়া ১২ বছর কারাদণ্ড পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল। ৫ বছর মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ডেপুটি কমিশনার (ক্রাইম) মো. আবু মারুফ হোসেন (টিটু), সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী আকাশ, হাফিজুর রহমান তুফান, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ, মাসুদুল হাসান মাসুদ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন ও একেএম আমির হোসেন আমু।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে একাধিক আসামিকে, যাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনও রয়েছেন। তারা হলেন- বেরোবি ছাত্রলীগ নেতা মাহাফুজুর রহমান শামীম, ফজলে রাব্বী, সেজান আহম্মেদ আরিফ, ধনঞ্জয় কুমার টগর, বাবুল হোসেন ও আখতার হোসেন, মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নূর আলম মিয়া, মো. মনিরুজ্জামান পলাশ ও মাহাবুবার রহমান বাবু।

মামলার শুনানিকালে মোট ২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন তার সাক্ষ্যে প্রতিটি আসামির পৃথক ভূমিকা তুলে ধরেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তারকা সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার ৩০ আসামির মধ্যে বর্তমানে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাদের আদালতে হাজির করে রায় ঘোষণা করা হয়। বাকি আসামিদের মধ্যে কয়েকজন এখনও পলাতক।

উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ এই মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর ধারাবাহিক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণা করা হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD