দেড় মাসের শিশুকে বুকে নিয়েই কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী

রাজধানীতে বিস্ফোরক আইনে দায়ের হওয়া এক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেড় মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে সঙ্গে নিয়েই কারাগারে যেতে হয়েছে যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই এ পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
এদিন দুপুরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।
বিজ্ঞাপন
আবেদনে বলা হয়, মামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে আটক রাখা প্রয়োজন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিনের আবেদন করে আদালতকে জানান, তার মক্কেলের দেড় মাস বয়সী একটি শিশু রয়েছে এবং তিনি সদ্য সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেছেন। মানবিক দিক বিবেচনায় শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি।
বিজ্ঞাপন
শুনানি শেষে বিকেলে আদালত কক্ষ থেকে বের করার সময় শিল্পী বেগমকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। পরে তার কোলে তুলে দেওয়া হয় দেড় মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে। আদালতের বারান্দায় বসে শিশুটিকে দুধ পান করান তিনি। এরপর সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই তাকে হাজতখানায় নেওয়া হয়।
এ সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাজনৈতিক কারণে সন্তানসহ তাকে কারাগারে যেতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময় হামলার শিকার হন তার সহপাঠীরা।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় শিল্পী বেগমের নির্দেশে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালায়। এ সময় ভাঙচুর, লুটপাট এবং বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হামলায় ভুক্তভোগীর পরিবারও আহত হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়।







