Logo

অবশেষে জামিন পেলেন আলোচিত সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ এপ্রিল, ২০২৬, ২০:৩০
অবশেষে জামিন পেলেন আলোচিত সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে বহুল আলোচিত ঘটনায় দেড় মাস বয়সী শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম অবশেষে জামিন পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান ৫ হাজার টাকা মুচলেখায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

বিজ্ঞাপন

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে একই দিনে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

জামিন নামঞ্জুরের পরপরই হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যের অবতারণা হয় আদালত প্রাঙ্গণে। দেড় মাস বয়সী কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানকে বুকে নিয়ে, শারীরিক দুর্বলতার মধ্যেই চোখের পানি ফেলতে ফেলতে কারাগারের পথে যেতে দেখা যায় শিল্পীকে। সিজারিয়ান অপারেশনের পরও তার এই অবস্থায় কারাগারে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আদালত সূত্র জানায়, দুপুর ২টার দিকে তাকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মামলার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে রাখা প্রয়োজন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী তার জামিন আবেদন করে বলেন, শিল্পীর মাত্র ১ মাস ১৬ দিনের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং তিনি সিজারিয়ান অপারেশনের পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করা হয়। তবে আদালত প্রথমে সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন।

বিজ্ঞাপন

বিকেল ৩টা ১২ মিনিটের দিকে আদালত থেকে বের করার সময় তাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। আদালতের বারান্দায় বসে শিশুকে দুধ খাওয়ানোর পর তাকে কোলে নিয়েই হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ সময় তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাকে শিশুসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখাঁরপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় শিল্পীর নির্দেশে একদল হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা ব্যবহার করে হামলায় বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর, লুটপাট এবং বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগও উঠে।

এই ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD