Logo

জুলাই আন্দোলনে অস্ত্র হাতে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন শামীম ওসমান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:৪১
জুলাই আন্দোলনে অস্ত্র হাতে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন শামীম ওসমান
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জে সশস্ত্র হামলা ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান-এর বিরুদ্ধে। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ এ অভিযোগ তুলে ধরে তারসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করেছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত বিচারিক প্যানেলের সামনে এ আবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

শুনানিতে তিনি মামলার তিনটি পৃথক অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যার পরিকল্পনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন শামীম ওসমান। শুধু পরিকল্পনাতেই নয়, তিনি নিজেও অস্ত্র হাতে নিয়ে গুলি চালিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের-এর অনুমোদন নিয়ে শামীম ওসমান তার নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীসহ নারায়ণগঞ্জে সহিংসতা চালান। এ বাহিনীতে মামলার অন্যান্য ১১ আসামিও যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।

প্রমাণ হিসেবে আদালতে ১৮টি ভিডিও ফুটেজ, অডিওসহ প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬১ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর তালিকাও দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হবে বলে তারা ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষ অভিযোগ থেকে অব্যাহতির (ডিসচার্জ) জন্য সময় প্রার্থনা করে। পরে ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করে।

বিজ্ঞাপন

মামলায় শামীম ওসমানের পাশাপাশি তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। তবে বর্তমানে তারা সবাই পলাতক রয়েছেন। আদালত তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া ও ফতুল্লা এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল ও ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জন নিহত হন। ২১ জুলাই ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। এছাড়া ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD