হামের প্রাদুর্ভাব না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখতে রিট, শুনানি সোমবার

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানির জন্য আগামী সোমবার দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেন। রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার পূর্ণিমা জাহান।
এর আগে চলতি মাসের ২ এপ্রিল হামের বিস্তার অব্যাহত থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। একইসঙ্গে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদনও জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে, রিট দায়েরের আগেই শিশুদের জন্য হামের টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী ওই নোটিশ পাঠান।
নোটিশটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রেরণ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, টিকার ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়ছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
বিজ্ঞাপন
নোটিশে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনও নোটিশের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর খবর এবং উপসর্গ নিয়ে অসুস্থতার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এতে সতর্ক করা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে—পরবর্তীতে সেই প্রেক্ষিতেই রিটটি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এখন হাইকোর্টের আসন্ন শুনানিকে কেন্দ্র করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা—এই দুই বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







