Logo

মাতুয়াইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় সৎ মামার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২০:৩৪
মাতুয়াইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় সৎ মামার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

তিন বছর আগে রাজধানীর মাতুয়াইলে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে তার সৎ মামা সোহান আলম তপুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে; অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রায়ে বলা হয়, দণ্ডিত ব্যক্তি অর্থদণ্ড দিতে ব্যর্থ হলে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে তপুকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, অভিযুক্ত সোহান আলম তপু সম্পর্কে ভিকটিমের মামা। নাবালিকা শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের মাধ্যমে তিনি চরম অনৈতিকতা ও বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণ একটি ভয়াবহ অপরাধে পরিণত হয়েছে, আর শিশুদের প্রতি এ ধরনের যৌন নির্যাতন আইন, সমাজ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

বিজ্ঞাপন

বিচারক উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। তবে আসামির বর্তমান বয়স ও ২০২৩ সালের ১৪ মে থেকে হাজতবাসের সময় বিবেচনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঘটনার সময় তপুর মা কদমতলীর মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতালে আয়ার কাজ করতেন। ওই সূত্রে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তাদের পরিচয় ছিল। ২০২৩ সালের ৮ মে রাতে তপুর মা শিশুটিকে বাসায় নিয়ে যান এবং গভীর রাতে তাকে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে দেন। পরদিন শিশুটি তার মাকে জানায়, সে ব্যথা পেয়েছে। পরে সে জানায়, খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তপু তাকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ১০ মে কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ২৬ মে তপুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মহসীন চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ৯ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং তার পক্ষে চারজন সাফাই সাক্ষ্য দেন।

সবশেষে যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD