ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ২১ হাজার ভোটারের ভোটগ্রহণ শুরু

দেশের সর্ববৃহৎ আইনজীবী সংগঠন ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের কার্যকরী কমিটির নির্বাচন শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে মোট ২১ হাজার ৭৩১ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। একই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট নেওয়া হবে, মাঝখানে এক ঘণ্টার বিরতি থাকবে। ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার (১ মে) ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এ সময় সদস্য পদে ইলেকট্রনিক মেশিনে ভোট গণনা এবং সম্পাদকীয় পদগুলোতে হাতে গণনা করা হবে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুটি প্যানেলের মধ্যে। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল’ (নীল প্যানেল) থেকে অংশ নিচ্ছেন। অপরদিকে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবীরা ‘আইনজীবী ঐক্য পরিষদ’ (সবুজ প্যানেল) নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দুই প্যানেলেই ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া বিভিন্ন পদে স্বতন্ত্র হিসেবে আরও কয়েকজন প্রার্থী লড়ছেন, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও বহুমাত্রিক করেছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ অংশ নিচ্ছে না। যদিও দলটির সমর্থক কিছু আইনজীবী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, তবে অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন ঘিরে আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি, কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। সদস্য পদেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী এই প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস. এম. কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ প্যানেলেও বিভিন্ন সম্পাদকীয় ও সদস্য পদে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সদস্য পদে ব্যালটে নির্ধারিত সংখ্যার কম বা বেশি ভোট দিলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। ফলে ভোটারদের সচেতনভাবে ভোট প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দেশের আইন অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্য ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন সবাই।








