Logo

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে পরীক্ষার্থীর ফল পুনঃপ্রকাশের নির্দেশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ জুলাই, ২০২৬, ১৩:০২
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে পরীক্ষার্থীর ফল পুনঃপ্রকাশের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২০২৩ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৬ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল নতুন করে মেধার ভিত্তিতে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে মামলার ১৫১ জন আবেদনকারীকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে দেওয়া এ রায়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া, কোটা ব্যবস্থা এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রায় ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, ২০২৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে সে সময় প্রচলিত কোটা নীতিমালা অনুসরণ করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ওই ব্যবস্থায় প্রায় ৮৪ শতাংশ নিয়োগ কোটা বিবেচনায় দেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ওই নিয়োগপ্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে ১৫১ জন প্রার্থী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। তাদের দাবি ছিল, পরবর্তী সময়ে কোটা-সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছেন, সেখানে মেধাভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে এবং নিয়োগে মেধার অংশ ৯৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই নীতিমালা অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশ ও নিয়োগ দেওয়া উচিত।

রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট নিয়োগপ্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে ১৫১ জন আবেদনকারীকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করলে বিষয়টি আপিল বিভাগের বিচারাধীন হয়। সর্বশেষ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে তিন দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

রায়ের প্রথম নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মামলার ১৫১ জন রিট আবেদনকারীকে ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় নির্দেশনায় আদালত বলেছেন, ২০২৩ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৬ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল সে সময়কার কোটা নীতির ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু কোটা-সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী রায়ের আলোকে এখন সেই ফলাফল নতুন করে মেধাভিত্তিকভাবে পুনর্মূল্যায়ন করে প্রকাশ করতে হবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী রায়ে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই নতুন ফল প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তৃতীয় নির্দেশনায় আপিল বিভাগ স্পষ্ট করেছেন, এই মামলার বিচার চলাকালে যেসব প্রার্থী ইতোমধ্যে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের নিয়োগ বাতিল করা হবে না। ন্যায়বিচারের স্বার্থে ইতোমধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ হাজার ৫৩১ জন শিক্ষকের চাকরি বহাল থাকবে।

আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে পুরোনো কোটা-ভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থার পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত মেধাভিত্তিক নীতিমালার প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়োগ কার্যক্রমেও মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হলো।

বিজ্ঞাপন

আদালতের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন ২০২৩ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হাজারো পরীক্ষার্থীর ফলাফল নতুন করে মূল্যায়নের পথ খুলে গেল, অন্যদিকে ইতোমধ্যে কর্মরত শিক্ষকদের চাকরিও বহাল থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD