Logo

আংশিক নয়, পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা উচিত: শরীফ ভূঁইয়া

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৩
আংশিক নয়, পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা উচিত: শরীফ ভূঁইয়া
ছবি: সংগৃহীত

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে চলমান আপিল শুনানিতে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেছেন, এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এটি সংবিধানের সঙ্গে ‘প্রতারণা’র শামিল। তার দাবি, পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক নয়, পুরোটা বাতিল করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে অনুষ্ঠিত শুনানিতে তিনি এ বক্তব্য তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) আপিল বিভাগে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ১৩ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ওই আদেশ দেন। সে সময় আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত বছরের ৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়। রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে দায়ের করা ওই আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিলের আবেদন জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেন। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়। তবে আদালত পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করেননি।

রায়ে আদালত বলেন, গণতন্ত্র বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি এবং অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমেই এর বিকাশ ঘটে। পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হাইকোর্ট আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরবর্তীতে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। সেই কারণে এ ব্যবস্থা বিলুপ্তি–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বাতিলযোগ্য।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এছাড়া রায়ে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। আদালতের মতে, এসব বিধান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে গণভোট বাতিল–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারাও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের আগের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।

তবে আদালত রায়ে স্পষ্ট করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর বাকি বিধানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়ায় এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সেসব বিষয়ে সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়, সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয় এবং সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে একাধিক সংযোজন, সংশোধন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD