ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিলেন মাত্র ৩৪ শতাংশ ভোটার

দেশের অন্যতম বৃহৎ আইনজীবী সংগঠন ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ মেয়াদের কার্যকরী কমিটির নির্বাচন দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। তবে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল—মোট ভোটারের মাত্র ৩৪ শতাংশ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন, আর ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন প্রায় ৬৬ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন জানান, প্রথম দিনে ২ হাজার ৭৫৯ জন এবং দ্বিতীয় দিনে ৪ হাজার ৩১০ জন আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। সব মিলিয়ে দুই দিনে ভোট দিয়েছেন মোট ৭ হাজার ৬৯ জন। যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৭৮৫ জন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটারদের সুবিধার্থে বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, আগামীকাল জুমার নামাজের পর ভোট গণনা শুরু হবে। ভোটার স্লিপগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে গণনা করা হবে এবং ফলাফল শুক্রবার রাত কিংবা শনিবার সকালে প্রকাশ করা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। দুই দিনই বৃষ্টির মধ্যেও অনেক আইনজীবী ভোট দিতে উপস্থিত হন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেয় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেল)। দুই প্যানেলে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া বিভিন্ন পদে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও ৮ জন প্রার্থী।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল অংশ নেয়নি। যদিও দলটির কয়েকজন সমর্থক আইনজীবী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধার অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রধান দুটি প্যানেলের মধ্যে নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান। অন্যদিকে সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে বিজয়ী হন। তবে একই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আদালতে আসা বন্ধ করে দিলে সমিতির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরে ১৩ আগস্ট বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের উদ্যোগে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যা বর্তমানে দায়িত্ব পালন করে আসছে।








