Logo

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ : কারাগারে মূল অভিযুক্ত মনির

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে, ২০২৬, ১৪:৪৬
চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ : কারাগারে মূল অভিযুক্ত মনির
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত মনির হোসেন (৩০) আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, আসামিকে আটক করার সময় উত্তেজিত জনতার সাথে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান আসামিকে আদালতে সোপর্দ করলে, মনির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এরপর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।

গ্রেপ্তারকৃত মনির হোসেন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন ঘারঘাটা গ্রামের সোনামিয়া বাড়ির বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন ধরে বাকলিয়ার মিয়াখান নগর এলাকায় বসবাস করে আসছিল এবং পেশায় একজন ডেকোরেটর কর্মচারী।

বিজ্ঞাপন

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দিন শিশুটির বাবা কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং মা গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। মা-বাবা ঘরে না থাকায় দম্পতির তিন সন্তান তাদের নানীর তত্ত্বাবধানে ছিল। এই সুযোগে অভিযুক্ত মনির হোসেন কৌশলে ওই শিশুকে নিজের লালসার শিকার বানায়। তবে এটি ধর্ষণ নাকি ধর্ষণের চেষ্টা ছিল, তা চূড়ান্ত মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের আবু জাফর রোড চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় শিশু নির্যাতনের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে বালুরমাঠ এলাকার একটি গোডাউন থেকে মনিরকে আটক করে।

তবে বিপত্তি ঘটে মনিরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়। বিকেল ৪টার দিকে উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে এবং একপর্যায়ে আসামিকে নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ বাধা দিলে স্থানীয়দের সাথে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ফাঁকা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। পুরো এলাকা প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ধরে রণক্ষেত্রে পরিণত থাকে। রাত সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ অত্যন্ত কৌশলে আসামিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হলেও, উত্তেজিত জনতা পুলিশের বেশ কয়েকটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে এবং সেগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে। এমনকি কক্সবাজার মহাসড়কের বাকলিয়া অংশ অবরোধ করে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। পরবর্তীতে রাত দেড়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ থেকে ৩৫ জন পুলিশ সদস্য এবং ৪ জন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি বড় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি থেকে ব্যাটারি চুরির অভিযোগে ইতিমধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে বাকলিয়া এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে।

এদিকে, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি নিজে বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় শুধুমাত্র মূল নির্যাতনকারী মনির হোসেনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD