Logo

জন্মপরিচয়ের রহস্য জানতে আদালতে ক্লাউডিয়া চৌধুরী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী
১৭ জুন, ২০২৬, ১৮:২৯
জন্মপরিচয়ের রহস্য জানতে আদালতে ক্লাউডিয়া চৌধুরী
ক্লাউডিয়া চৌধুরী | ফাইল ছবি

রাজশাহীতে নিজের প্রকৃত পরিচয় ও জন্মসংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা উদঘাটনের দাবিতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন ক্লাউডিয়া চৌধুরী। শৈশব থেকে যাদের বাবা-মা হিসেবে জেনে বড় হয়েছেন, পরবর্তীতে তারা তার জৈবিক অভিভাবক নন— এমন তথ্য জানার পর থেকেই পরিচয়সংকটে ভুগছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় প্রতারণা, জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং জন্মনিবন্ধন সংশোধনসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন ক্লাউডিয়া।

বুধবার (১৭ জুন) রাজশাহীর একটি আদালতে তিনি নিজেই বাদী হয়ে চিকিৎসক ডা. শিপ্রা চৌধুরী এবং তার সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা মো. নাজমুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তার পরিচয়সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিতে অসঙ্গতি তৈরি করা হয়েছে এবং তার অজান্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হযরত আলী জানান, আদালত অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ক্লাউডিয়াকে শৈশবে অজ্ঞাত উৎস থেকে নিয়ে এসে নিজের সন্তান পরিচয়ে লালন-পালন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অভিভাবকত্ব গ্রহণ কিংবা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর দাবি, তার জন্মনিবন্ধন, টিকা কার্ড, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথি এবং এসএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন কাগজপত্রে দীর্ঘদিন ধরে ডা. ওবায়দুর রহমান চৌধুরী ও ডা. শিপ্রা চৌধুরীকে বাবা-মা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই জন্মনিবন্ধনে অন্য দুই ব্যক্তির নাম অভিভাবক হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ক্লাউডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন করে যাদের নাম যুক্ত করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে তার কোনো পরিচয় বা পারিবারিক সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেন, ওই পরিবর্তনের বিষয়ে তাকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুন মাসে তাকে চাপ প্রয়োগ করে একটি হলফনামায় স্বাক্ষর করানো হয়। পরবর্তীতে জানানো হয়, তিনি পরিবারের জৈবিক সন্তান নন। এরপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া তার পাসপোর্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। পরিচয়সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণেও সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তার শিক্ষাজীবনেরও ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রথমবার জন্মনিবন্ধনের সময় তার নাম, জন্মতারিখ ও অভিভাবক পরিচয় সংক্রান্ত ভুল তথ্য প্রদান করা হয়েছিল। পরে আবার নতুন তথ্য সংযোজন করে সংশোধনের মাধ্যমে নতুন জটিলতা তৈরি করা হয়। একই ধরনের পরিবর্তন শিক্ষাবোর্ডের নথি এবং এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ও প্রবেশপত্রেও করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

আইনজীবী হযরত আলী বলেন, পরিচয়সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে ক্লাউডিয়ার পাসপোর্টও তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, নিজের প্রকৃত জন্মপরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় ক্লাউডিয়া দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছেন। একজন মানুষের জন্য নিজের পরিচয় সম্পর্কে অনিশ্চয়তা অত্যন্ত কষ্টকর এবং এটি তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাদীপক্ষের দাবি, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় সম্প্রতি ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী ক্লাউডিয়ার বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে মামলায় দুইজনকে আসামি করা হলেও তদন্তে অন্য কোনো ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

আদালতের নির্দেশনার পর পিবিআই এখন অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, নথিপত্র পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ করবে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ডা. শিপ্রা চৌধুরীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতেও তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পরিচয়, মানবাধিকার এবং আইনি স্বচ্ছতার প্রশ্নকে সামনে এনে আলোচিত এই মামলার তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকে নজর রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD