Logo

১৫ দুর্নীতি মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৩২
১৫ দুর্নীতি মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস
মির্জা আব্বাস | ফাইল ছবি

বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা ক্ষতির অভিযোগে করা ১৫টি দুর্নীতি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসসহ সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এসব মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মির্জা আব্বাসসহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ১৫টি মামলা করে। এর মধ্যে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে সবগুলো মামলায় আসামি করা হয়। অন্য আসামিদের বিভিন্ন মামলায় পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

এসব মামলায় মির্জা আব্বাস ছাড়াও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আহমেদ আকবর সোবহানসহ অন্য আসামিদের নাম ছিল। রায় ঘোষণার সময় তাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ মামলার অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

২০০৭ সালে মামলা, একই বছর অভিযোগ গঠন

বিজ্ঞাপন

দুদক ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ মামলাগুলো দায়ের করে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশান, ধানমন্ডি ও শান্তিনগরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় থাকা মোট ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, রাজউকের মাধ্যমে সাজানো দরপত্রে কারচুপি করে পছন্দের ব্যক্তিদের এসব সম্পত্তি পাইয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয় বলে দুদক অভিযোগ করে।

যেসব অনিয়মের অভিযোগ ছিল

বিজ্ঞাপন

মামলার নথি অনুযায়ী, গুলশানের একাধিক বাড়ি ছাড়াও ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার কয়েকটি সম্পত্তি, কলেজ স্ট্রিটের দুটি বাড়ি এবং শান্তিনগরের নওরতন কলোনির একটি বাড়িসহ ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি বিক্রির প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।

দুদকের অভিযোগ ছিল, তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে মির্জা আব্বাস ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে এসব সম্পত্তি বিক্রির অনুমোদন দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দেওয়া তুলনামূলক বেশি দর বিবেচনায় না নিয়ে রাজউকের কম মূল্যের দরপত্রের ভিত্তিতে সম্পত্তিগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দুদকের মামলায় আরও বলা হয়, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মির্জা আব্বাসসহ অন্য আসামিরা লাভবান হন এবং সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা ক্ষতি হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

২৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

বিজ্ঞাপন

মামলাগুলোর বিচার চলাকালে আদালত মোট ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত মির্জা আব্বাসসহ এসব মামলার সব আসামিকে খালাস দেন।

তবে রায়ের পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ ও আসামিদের খালাস দেওয়ার বিস্তারিত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD