আইন পেশায় সফল হতে অর্থের পেছনে না ছুটে দক্ষতার পেছনে ছুটুন

আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে নবীন আইনজীবীদের অর্থের পেছনে না ছুটে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি বা শর্টকাটের পথ বেছে নিয়ে দ্রুত অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার চেষ্টা না করে মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা কঠোর ও স্বচ্ছ করার অন্যতম লক্ষ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ পেয়েছেন, তারা কারও অনুকম্পায় নয়, নিজেদের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই এ পর্যায়ে এসেছেন।
তিনি বলেন, এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় নেপোটিজমের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশাজীবনের শুরুতে কাজের সুযোগ ও পারিশ্রমিক কম হতে পারে। এ সময় ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি এবং পারিশ্রমিকও বাড়বে। তাই শুরু থেকেই অর্থের পেছনে না ছুটে দক্ষ আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
পেশাগত নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ক্লায়েন্ট ইজ এ ক্লায়েন্ট।’ প্রত্যেক ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রেখে আইন পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। একই সঙ্গে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও আইনজীবীদের দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু মামলা বিনামূল্যে পরিচালনার জন্যও নবীন আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
নিয়মিত পড়াশোনা ও আইনচর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আইন পেশায় প্রতিনিয়ত শেখার সুযোগ রয়েছে। ভালো ড্রাফটিংসহ প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হবে।
আইনমন্ত্রী জানান, আইনজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। শিক্ষা, মেধা, দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ আইনজীবী সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া, স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এম. এ. বাকি খলিলি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা দেওয়া হয়।








