Logo

ট্রাইব্যুনালে কামরুলের ‘চিৎকার-চেঁচামেচি’, রক্ষীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৩৪
ট্রাইব্যুনালে কামরুলের ‘চিৎকার-চেঁচামেচি’, রক্ষীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার
ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় চিৎকার-চেঁচামেচি ও আপত্তি জানানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাকে পাহারায় থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করেছে প্রসিকিউশন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এসব অভিযোগের কথা জানান।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের সময় এক সাক্ষী আওয়ামী লীগের নেতাদের কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান। তখন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সাক্ষীকে ওই নেতাদের পরিচয় জানতে প্রশ্ন করেন।

মিজানুল ইসলাম জানান, এই প্রশ্নকে অবৈধ দাবি করে আসামি কামরুল ইসলাম চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং আপত্তি জানান। একপর্যায়ে তিনি বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

মিজানুল ইসলাম বলেন, আদালত শান্ত ও শিষ্টভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। প্রসিকিউশনের উদ্দেশ্য হলো আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করা। সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নই প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ করেছেন বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আর প্রমাণের জন্য যে প্রশ্ন করা দরকার, সেটাই প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বৈধভাবে করেছেন। আসামির বিভিন্ন অপশন থাকতে পারে। আসামি নিজে দাবি করেছেন, তিনি ৪০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী। তবে প্রসিকিউটরের প্রশ্নে কোনো অবৈধতা ছিল না, তিনি বৈধ প্রশ্ন করেছেন। ট্রাইব্যুনাল আমাদের বক্তব্য সমর্থন করেছেন এবং এ প্রশ্ন করার শেষ পর্যন্ত অনুমতি দিয়েছেন।’

রক্ষীদের সঙ্গে কামরুল ইসলামের আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পরেও শুনলাম, তিনি রক্ষীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন এবং এটা আমরা মাঝেমধ্যেই দেখতে পাই। তিনি কেন করেন, এটা আল্লাহই ভালো জানেন।’

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, এর আগেও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেসব সদস্য তাকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা-নেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন, তাদের সঙ্গেও তিনি প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে মেনন ও কামরুল বিভিন্নভাবে উসকানি দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ে থেকে তারা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি কারফিউ জারির জন্য প্ররোচনা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের পর রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডা ও আশপাশের এলাকায় ২৩ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনায় মেনন ও কামরুলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম দুজনকেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD