Logo

দণ্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত হলে জব্দ-বিক্রি-বণ্টন হবে যেভাবে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:০৭
দণ্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত হলে জব্দ-বিক্রি-বণ্টন হবে যেভাবে
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কয়েকটি রায়ে দণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ এসেছে। এসব সম্পদ কীভাবে জব্দ, মূল্যায়ন, বিক্রি বা হস্তান্তর করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ কীভাবে পৌঁছাবে—তা নিয়ে এখন আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন সামনে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক এক মামলার রায়ে ওবায়দুল কাদের, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ৫০ শতাংশ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সম্পদ ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা রয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধনের পর এই ক্ষমতার পরিধি আরও স্পষ্ট করা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০(এ) ধারায় ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান যুক্ত হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির বর্তমান সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও তা আদায়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া ট্রাইব্যুনালের বর্তমান কার্যবিধিতে স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ধরনের আদেশ কীভাবে কার্যকর হবে, তা পরিষ্কার করতে কার্যবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, প্রচলিত আইনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আপিলের সময় কী হবে

সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশের ক্ষেত্রে রায় ঘোষণার পর আপিলের সুযোগ থাকায় এর বাস্তবায়ন কখন শুরু হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায় প্রকাশের পর আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময় থাকে। এই সময়সীমা পার হওয়ার পর আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে সম্পদ বাজেয়াপ্তের স্পষ্ট নির্দেশ থাকলে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা কার্যকর করতে হবে। তাঁর মতে, কোনো আসামি পলাতক থাকলেও শুধু সে কারণে সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হয় না।

বিজ্ঞাপন

জব্দ ও বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

বাজেয়াপ্তের পর সম্পদ কোন কর্তৃপক্ষের কাছে যাবে, সম্পত্তির বাজারমূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে এবং নগদ অর্থে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় বাস্তবায়নে বিদ্যমান আইন, বিশেষ করে ‘পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট’ ও সংশ্লিষ্ট বিধান প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধি সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ক্ষতিপূরণ পাবেন কারা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০(এ) ধারার উদ্দেশ্য হলো মানবতাবিরোধী অপরাধের ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। ফলে বাজেয়াপ্ত সম্পদ থেকে অর্থ আদায় হলে কারা ক্ষতিপূরণের যোগ্য হবেন, প্রত্যেকের ক্ষতির পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করা হবে এবং অর্থ বিতরণের দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষ পালন করবে—এসব বিষয়ও বাস্তবায়ন কাঠামোর অংশ হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাইব্যুনালের রায়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে বিস্তারিত প্রক্রিয়া স্পষ্ট না থাকলে প্রচলিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণের প্রয়োজন হবে।

বিজ্ঞাপন

ফলে বর্তমানে সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় দেওয়ার পাশাপাশি সেগুলো বাস্তবে জব্দ, মূল্যায়ন, বিক্রি বা হস্তান্তর এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টনের জন্য একটি স্পষ্ট ও কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরিই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD