Logo

দেশে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন, বিচারক মাত্র ২৩০০: আইনমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৫৬
দেশে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন, বিচারক মাত্র ২৩০০: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাত্র ২ হাজার ৩০০ বিচারকের পক্ষে বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা বড় চ্যালেঞ্জ। মামলার এই চাপ অনেক সময় বিচারকদের জন্য অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি করে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের কনফারেন্স রুমে দুটি ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

তিনি জানান, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে মামলার চাপ তুলনামূলক বেশি। যেসব জেলায় মামলার সংখ্যা বেশি, সেখানে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে আগ্রহী বিচারকদের বাছাই করে পদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

কিছু আদালতে স্বল্প সময় বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও কোথাও বিচারকদের বেলা ১১টার দিকে আদালতে আসা এবং দুপুর দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে কাজ শেষ করার অভিযোগ রয়েছে। যারা আয়েশ করে চাকরি করতে চান, তাদের সে অনুযায়ী অন্যত্র পদায়নের ইঙ্গিতও দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মামলাজট কমাতে মামলা দায়েরের আগে মধ্যস্থতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৩০টি জেলায় এ কার্যক্রম চালু হয়েছে, যেখানে সাফল্যের হার ৬২ শতাংশের বেশি। বর্তমানে ১১টি আইনের আওতায় মামলা দায়েরের আগে মধ্যস্থতা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগে সহযোগিতা করছে জাইকা, জিআইজেড ও ইউএনডিপি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে নতুন মামলার সংখ্যা কমানো এবং বিদ্যমান মামলা নিষ্পত্তিতে বিচারকদের আরও সময় ও নিষ্ঠা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে এক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।

বিচারিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে যানবাহন, নিরাপত্তা ও বিপুল জনবল প্রয়োজন হয়। এ চাপ কমাতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের চিন্তা করছে সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কয়েকজন আসামির ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

ই-বেইলবন্ডের সুফল মানুষ পেতে শুরু করেছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, পূর্ণাঙ্গ ই-জুডিশিয়ারি চালু করতে বিচারিক প্রক্রিয়ার সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এতে ব্যয় কমানোর সুযোগও তৈরি হবে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ে বিচারকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের চেহারা ও কণ্ঠস্বর নকল করার প্রযুক্তি ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে উল্লেখ করে বিচারকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আদালতে গিয়ে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ঘুরতে হয়—মানুষের এমন অভিজ্ঞতা বদলাতে চায় সরকার। নাগরিকেরা যেন দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আস্থা রাখতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরিতে কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD