মাশরুম চাষ করে স্বপ্ন পূরণ করলেন নাছরিন খাতুন


Janobani

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১:৫৪ অপরাহ্ন, ৩১শে জানুয়ারী ২০২৪


মাশরুম চাষ করে স্বপ্ন পূরণ করলেন নাছরিন খাতুন
নাছরিন খাতুন। ছবি: জনবাণী

দীর্ঘদিন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছে থাকলে একপর্যায়ে সপ্ন পূরণে পরিবারের সহোযোগিতায় নিজের কঠোর পরিশ্রমে মাশরুম চাষ করে সফলতা পেয়েছে নারী উদ্যোক্তা নাছরিন খাতুন। বিভিন্ন সময় বাবা-মায়ের কাছ থেকে হাত খরচে টাকা নিয়ে চলতে হয়। নিজের প্রয়োজন মেটাতে হয়।এটা নিজের কাছে অনেক লজ্জার তাই মনের সঙ্গে যুদ্ধ করে নিজে কিছু করার চেষ্টা করে চলেছি ইনশাআল্লাহ এখন অনেক ভালো আছি। এমন করে বললেন নারী উদ্যোক্তা মাশরুম চাষের সাফল্য অর্জনকারী নাসরিন খাতুন।


মাগুরা সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের রাউতারা এলাকায় নাছরিন খাতুন এর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বাবার বাড়িতে নিজেদের থাকার ছোট টিনের ঘরে মধ্যে এক পাশে স্পন প্যাকেট তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেন মাশরুম চাষ। এতে প্রথম দিকে মাত্র ৩ বছরে তার লাভ হয় তিন লক্ষ ৬০টাকা। এরপর তিনি ঘরের পাশে আর টি ঘরে  আরও বড় আকারে শুরু করেন মাশরুম চাষ পদ্ধতি।


আরও পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনালো মাগুরা জেলা তথ্য অফিস


নাছরিন খাতুন বলেন, আমি একা একা ঘরে বসে থাকতাম আমার ভালো লাগতোনা মনে মনে ভাবতাম আমি কি করবো  পরে আমি মাশরুম চাষের কথা ভাববি , প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমে মাত্র ২৫০টি স্পন কিনে এনে চাষ শুরু করলেও এখন প্রায়  ৯০০ স্পন তৈরি করে তিনি বাণিজ্যিকভাবে করছেন মাশরুম চাষ। দেশের বিভিন্ন যায়গায় বিক্রি করেন মাশরুম। এতে বেশ লাভবানও হচ্ছেন তিনি। আর তার এই সাফল্য দেখে জেলায় অনেকেই শুরু করেছেন মাশরুম চাষ।


সোশাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখে তার আগ্রহ জাগে মাশরুম চাষের। পরে ঢাকা সাভারে মাশরুম ইনস্টিটিউট থেকে কয়েক দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাসায় ফিরে নিজেই ছোট পরিসরে প্রজেক্ট হাতে নেয়। তা দিয়েই নাছরিন খাতুন বাড়ি ও ২টা বিদেশী গরু কিনেছে ও তার পরিবারও চলছে।


নাছরিনের বাবা বলেন, বিভিন্ন চায়নিজ রেস্তোরাঁর মালিক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ আমাদের এখান থেকে মাশরুম কিনে নিয়ে যায়। অর্ডার করে দুই- তিনদিন ধরে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে মাশরুম সরবরাহ করি। এখন খামারের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। সামনে আরো বাড়ানোর ইচ্ছে আছে।দ্রুত আরো বেশি বড় করবো ইনশাআল্লাহ।


সফল নারী উদ্যোক্তা নাছরিন খাতুন বলেন, কিছু একটা করে স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছে। সবশেষ তিন বছর আগে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কাজে নেমে গেলাম। মাশরুম লাভজনক চাষ। যত্ন নিলে সারা বছর কমবেশি ফলন পাওয়া যায়। তবে বীজের অভাবে অনেকেই মাশরুম চাষ করতে পারছে না। অধিকাংশ মানুষ বাইরে থেকে বীজ সংগ্রহ করে মাশরুম চাষ করছে। এখন আগ্রহীরা তার কাছে বীজ পাবে বলেও জানান তিনি। কিন্তু এখানে পুরো মাসজুড়ে মাশরুম চাষে সময় দিচ্ছি। এতে যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে যাচ্ছে। আমার মাস প্রায় ৫০ হাজার  টাকা গড়ে আসে। আমার দেখা দেখি এখন অনেকেই মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছে।


আরও পড়ুন: মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত


মাগুরা সদর উপজেলা কৃষিবিদ অফিসার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সবজি হিসেবে মানুষের মধ্যে মাশরুম এখন বেশ জনপ্রিয়। বাজারে এটির চাহিদাও অনেক। অনেকের মত নাছরিন খাতুন কঠোর পরিশ্রম করে মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী হয়েছে। সেখানে তার পরিবারও তার সঙ্গে সহযোগিতা করেছে। এটি অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হবে। উনার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে এবং তার সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা রইল।


আরএক্স/