ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে পাকিস্তানের জনতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২:৪১ পিএম, ৫ই আগস্ট ২০২৫

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আজ থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছে তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
আরও পড়ুন: গাজা সীমান্তে ত্রাণবাহী ২২ হাজার ট্রাক আটকে রেখেছে ইসরায়েল, অনাহারে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে এ আন্দোলন। তবে বর্তমান সরকারকে উৎখাত না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দলটি সর্মথকরা।
অন্যদিকে রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার হাসান ওয়াকার চিমার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়, জেলার সীমানার মধ্যে সব ধরণের সমাবেশ, অবস্থান, বিক্ষোভ, বিক্ষোভ এবং চারজনের বেশি ব্যক্তির সমাবেশ তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
পিটিআই পাঞ্জাব মিডিয়া সেলের প্রধান শায়ান বশির এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত কয়েক দিনে প্রায় ২০০টি অভিযান চালানো হয়েছে এবং অনেক কর্মীকে তুলে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। লাহোর এবং আদিয়ালা জেলের বাইরে বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পাঞ্জাবজুড়ে বিশাল মিছিল ও র্যালির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পিটিআই নেতা ও সিনেটর আলি জাফর বলেন, যদিও ইমরান খান সংলাপের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন, তবে রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত বদলাতে সময় লাগে না। ইমরান খান অতীতে দুই শর্তে সরকারকে সঙ্গে নিয়ে সংলাপে বসার অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকার তা মানেনি। ইমরান খান আদালতের মাধ্যমেই মুক্তি পাওয়ার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাকে জোর করে রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে। সরকার এবং ক্ষমতাশীল মহল তার এবং তার স্ত্রীর ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।
অন্যদিকে পাঞ্জাবের তথ্যমন্ত্রী আজমা বোখারী লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, জনগণ ৫ আগস্টের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। পিটিআই আর রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে আঘাত করতে চায়।
তিনি বলেন, যে ব্যক্তি একসময় ‘হাকিকি আজাদি’র (বাস্তব স্বাধীনতা) স্লোগান তুলেছিল, তারই এক কোটি ৮০ লাখ ডলারের বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। একসময় যে ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্বাধীনতা চেয়েছিল, এখন তার ছেলেরাও সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি করছে। পুরো দেশ যখন ৫ আগস্ট কাশ্মীরিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে, ঠিক সেই সময় পিটিআইয়ের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দুরভিসন্ধিমূলক।
এ বিষয়ে পিটিআই নেতা আসাদ কায়সারের জানান, ৫ আগস্ট বিক্ষোভের সূচনা মাত্র। তবে এটিকে ‘চূড়ান্ত আহ্বান’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত হবে না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিকে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র বলা হচ্ছে। ২০২৩ সালের এই দিনে ইমরান খান দুর্নীতির মামলায় কারাবরণ করেন। তাই পিটিআই এই দিনটিকে তাদের আন্দোলনের প্রতীকী সূচনা হিসেবে আজকের দিনটি বেছে নিয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতের ওপর শুল্ক ‘উল্লেখযোগ্য হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
তিনি বলেন, দলের প্রাদেশিক ইউনিটগুলোকে মিছিল, গণসচেতনতা কর্মসূচি এবং অন্যান্য প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ আমরা তাদের অধিকার নিয়েই আওয়াজ তুলছি। ইতোমধ্যে পাঞ্জাব ও কাশ্মীর অঞ্চলে দলের নেতাকর্মীদের ওপর ধরপাকড় শুরু হয়েছে এবং কিছু এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এই দিনে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ইমরান খান। সেই তারিখটিকে সামনে রেখে দলটি এদিন থেকেই আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: ডন
এসডি/