গাজায় ২৩৩ ইমামকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েল

গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার হামলা, বোমাবর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ধ্বংস।
বিজ্ঞাপন
গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার হামলা, বোমাবর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ধ্বংস। সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে শুধু জনবসতি নয়, পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে মসজিদ, গির্জা, মসজিদের ইমাম এবং ধর্মীয় প্রচারকদেরও। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে শতাব্দী প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা—যার প্রভাব পড়ছে ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিচয়ের ওপর।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে রাতভর রুশ হামলা, নিহত ১৪
বিজ্ঞাপন
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় চলমান আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ২৩৩ জন ইমাম ও ইসলাম ধর্মের প্রচারককে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ধ্বংস করেছে ৮২৮ মসজিদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১৬৭টি মসজিদ। এছাড়াও এই সময়ের মধ্যে বোমা হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে তিনটি চার্চ, হত্যা করা হয়েছে ২১ জন ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানকে।
বিজ্ঞাপন
গাজার মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল থাওয়াবতেহ তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, ‘ইসরায়েলি বাহিনী ধর্মীয় কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে এবং প্রতিরোধের সামাজিক ভিত্তিকে ধ্বংস করতে ধর্মীয় স্থাপনা ও নেতাদের ওপর লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।’
তিনি জানান, ইমাম ও আলেমরা জাতীয় পরিচয় শক্তিশালী করতে, ঈমান জাগ্রত রাখতে এবং সামাজিক সংহতি রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের হত্যা ও নির্মূল করার মাধ্যমে মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ইসরায়েলের অপরাধগুলো চিহ্নিতকারী আওয়াজ নিস্তব্ধ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
রোম স্ট্যাটিউট অনুযায়ী, এসব ধর্মীয় স্থানে ইচ্ছাকৃত হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় স্থাপনার এই ধ্বংসের উদ্দেশ্য শুধু সামরিক নয়, বরং এটি ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমষ্টিগত স্মৃতিকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা। শতাব্দী প্রাচীন মসজিদ-গির্জা ভেঙে ফেলা হচ্ছে, যা একসময় ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার গৌরব বহন করত।
বিজ্ঞাপন
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড
এসডি/








