কোডিং ফেস্ট ২০২৫-এ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বজয়
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১:০৩ পিএম, ৩০শে আগস্ট ২০২৫

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা “Coding Fest 2025”-এ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) গৌরবজনক সাফল্য অর্জন করেছে।
২৯ জুলাই ২০২৫ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো: রাশেদুল আলম এবং শিক্ষক অধ্যাপক ড. জুলফিকার মাহমুদ ও ড. সজীব সাহা প্রণীত প্রকল্প “Disaster Aid” প্রতিযোগিতার “AI for Safety, Risk, and Resilience” ক্যাটাগরিতে বেস্ট প্রজেক্ট চ্যাম্পিয়ন এওয়ার্ড অর্জন করে। প্রকল্পটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে দুর্যোগ পরিস্থিতি দ্রুত সনাক্তকরণ, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং কার্যকর ত্রাণ ব্যবস্থাপনার উদ্ভাবনী সমাধান উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তব জীবনে নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।
একই ক্যাটাগরিতে রানার-আপ হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি দল। তাদের প্রকল্পের শিরোনাম ছিল “Enhanced Graph Signal Reconstruction Using Adaptive and Multi-Scale Clustering Techniques”, যেখানে উন্নত গণনাপদ্ধতি ব্যবহার করে জটিল ডেটা বিশ্লেষণের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
এই আন্তর্জাতিক অর্জনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সিএসই বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: রেজাউল করিম, পিএইচডির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
উপাচার্য বিজয়ী দল ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই অর্জন শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, গোটা বাংলাদেশের জন্যই এক গৌরবের বিষয়। ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে আমাদের শিক্ষার্থীরা সফল হবে বলে আমি আশাবাদী।”
আরও পড়ুন : জ্ঞান ফিরেছে নুরের
এই প্রজেক্ট নিয়ে রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ডিজাস্টার এইড একটা AI Powered Drone নিয়ে যেইটা আনলিমিটেড ব্যাটারি ব্যাকাপ থাকে, অর্থাৎ সাধারণ ড্রোনের মতো না যে ৩-৪ ঘণ্টা ব্যাকাপ। বন্যা কবলিত যায়গা গুলায় এইটারে জিও লোকেশন দিয়ে দিলে একাই এলাকা কভার করে এক্সাক্টলি কোনো কোনো জায়গায় মানুষ আছে, কতজন আছে, কি অবস্থায় আছে, জিবত না মৃত, কোনো কোনো জিনিস আছে রিয়্যাল টাইকে ডিটেক্ট করে সেইটা পাঠাবে। আর চার্জ লাগবে না, সোলার বেসড হবে এইটা, আর সূর্যের আলো সরাসরি না পরলেও সমস্যা হবে না।”
এছাড়াও একই ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয় হাবিবুর রহমান রিফাত, আরুন রায়, মো. শামীম বিন শাহিদ, এবং অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ারুল ইসলাম এর টিম। যার শিরোনাম ছিল, “A Lightweight and Explainable CNN Model for Detecting Microplastics from Holographic Images” এই প্রকল্পে হালকা ও ব্যাখ্যাযোগ্য সিএনএন আর্কিটেকচার ও হোলোগ্রাফিক ইমেজিং ব্যবহার করে সীমিত সম্পদে দ্রুত ও নির্ভুল মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের একটি নতুন পদ্ধতি প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সমাধান পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ ও তথ্য-ভিত্তিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
তৃতীয় টিম যারা রানার্সআপ হয়েছেন তারা হলেন, ফাহিম হাসান, মোসা: শিমা আক্তার, সেলিনা শারমিন ও সজীব সাহা। তাদের প্রজেক্টের শিরোনাম ছিলো,"Enhanced Graph Signal Reconstruction Using Adaptive and Multi-Scale Clustering Techniques”। এটা নিয়ে ফাহিম হাসান বলেন, “এটা বেসিকালি ডাটা রিকনস্ট্রাকশন নিয়ে কাজ করে আমরা কিভাবে ডাটা লস কমাতে পারি রিকনস্ট্রাকশন পলিসি এপ্লাই করে, এটা নিয়েই আমাদের প্রজেক্ট।”
উল্লেখ্য, এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৫০০-এরও বেশি প্রতিযোগী অংশ নেন এবং প্রায় ৬০টি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। অংশগ্রহণকারী শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ছিল University of Sydney, University of New South Wales (UNSW), University of Technology Sydney (UTS) এবং Macquarie University।
এসএ/