গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছে ব্যাংকগুলো

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার নিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটকে সামনে রেখে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশজুড়ে প্রচারণা শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক শাখার সামনে ইতোমধ্যে শোভা পাচ্ছে প্রচারপত্র, ব্যানার ও ফেস্টুন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা ও পল্টনসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ব্যাংক শাখার প্রবেশপথে গণভোটের পক্ষে প্রচারণামূলক ব্যানার টানানো হয়েছে। কোথাও সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, আবার কোথাও ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’—এমন স্লোগানের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের নির্দেশনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মৌখিকভাবে এই প্রচারণা কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবেই শাখাগুলোর সামনে ব্যানার প্রদর্শন করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন সরকারের ঘোষিত সংস্কার উদ্যোগ ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর-এর সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই গভর্নর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা জোরদারের নির্দেশ দেন। বৈঠকে জানানো হয়, সরকারের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিটি ব্যাংক শাখার সামনে অন্তত দুটি করে ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে।
এরও আগে, গত ৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ও শাখার সম্মুখভাগে দুটি করে ‘খাড়া ব্যানার’ প্রদর্শনের অনুরোধ জানানো হয়। এ বিষয়ে গত ৪ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর বিশেষ সহকারী ও প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়কের বৈঠকে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।








