Logo

অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৬ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৮:১০
অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৬ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে সংস্থাটি আশাবাদ প্রকাশ করেছে যে, পরবর্তী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’-এর জানুয়ারি সংস্করণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা নিয়ে এই পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ভোক্তাদের ব্যয় ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমে আসায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরতে পারে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে। এতে নতুন সরকার কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, যা শিল্প ও উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। এসব ইতিবাচক প্রত্যাশার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস উন্নীত করেছে সংস্থাটি।

তবে ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি প্রতিবেদনে বেশ কিছু ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে ঋণের প্রবাহ কমে যাচ্ছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের সম্ভাবনার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তবে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ জোরদার করা গেলে এসব ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভুটানে— ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে ভারত (৬.৫ শতাংশ), বাংলাদেশ (৪.৬ শতাংশ), মালদ্বীপ (৩.৯ শতাংশ), শ্রীলঙ্কা (৩.৫ শতাংশ) ও নেপাল (২.১ শতাংশ)। তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জন্য আলাদা কোনো প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়নি সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই–সেপ্টেম্বর) সময়ে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ, যা প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং ২০২৭ সালে তা সামান্য বেড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৬ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নামার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী এক দশকে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করবে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, ডিজিটাল ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বলে বিশ্বব্যাংক মনে করে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD