ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনেই রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সামনে পবিত্র রমজানকে ঘিরে প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই দেশে এসেছে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স। এ প্রবাহ অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ও রমজান উপলক্ষে পরিবারের বাড়তি খরচ সামলাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা স্থানীয় মুদ্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার সমান। একক মাস হিসেবে এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার এসেছিল, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেকর্ডটি রয়েছে গত বছরের মার্চে—ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সে সময় ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে।
বিজ্ঞাপন
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার।
চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী—জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের এ সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।
বিজ্ঞাপন
রিজার্ভ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল–এর বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয়ে গতি ফিরে আসে। ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমায় অবৈধ হুন্ডির প্রভাব হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।








