লোকসানের অজুহাতে ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে মরিয়া কোম্পানিগুলো

দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে তারা প্রতি লিটার তেলের দাম ১০ টাকা বাড়ানোর আবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমান দামে আমদানি অব্যাহত রাখলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
বিজ্ঞাপন
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। গত ১১ জুলাই বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রথম এ প্রস্তাব দেয়। পরে গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে আরেকটি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য আমদানি-সংশ্লিষ্ট খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন। তাদের মতে, বর্তমান দামে ব্যবসা পরিচালনা করলে ধারাবাহিকভাবে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রস্তাব অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য প্রতি লিটারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার ১৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৮ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম ১৮৩ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিভিন্ন কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধা বিবেচনায় নিয়েই মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে প্রায় তিন মাস আগে সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আগের বৈঠকে সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। ফলে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এ কারণে নতুন করে আরেকটি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোজ্যতেলের যৌক্তিক মূল্য কত হওয়া উচিত, তা নির্ধারণে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) বিশ্লেষণ করছে।
বিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম বর্তমানে প্রতি টন ১ হাজার ১৯১ মার্কিন ডলার, যা এক মাস আগে ছিল ১ হাজার ১৬৯ ডলার এবং এক বছর আগে ছিল ১ হাজার ৭৮ ডলার। একইভাবে অপরিশোধিত পাম তেলের দাম বেড়ে প্রতি টন ১ হাজার ১৬২ ডলারে পৌঁছেছে। এক মাস আগে যার দাম ছিল ১ হাজার ১৪৫ ডলার এবং এক বছর আগে ছিল ১ হাজার ২৫ ডলার।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তার পুরোপুরি মিল নেই। তাই কর ছাড়সহ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে টি কে গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. শফিউল আতহার তসলিম বলেন, আমদানি পর্যায়ে প্রায় সব ধরনের ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতি লিটার তেলে অতিরিক্ত ১৮ থেকে ২০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে এবং আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন লোকসান দিয়ে এভাবে আমদানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।








