Logo

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় তিতাসের আরেক কূপের গ্যাস

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:৩১
জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় তিতাসের আরেক কূপের গ্যাস
ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি সংকটের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বিজ্ঞাপন

এদিকে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯ নম্বর কূপ থেকেও শিগগির জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও কয়েকটি কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) পরিচালিত তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে ২৩টি কূপ উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তোলনের কারণে মজুত ও চাপ কমে যাওয়ায় পুরোনো কূপগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে।

এ পরিস্থিতিতে সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ‘সি’ লোকেশনে নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে ২০১২ সালে জরিপ চালানো হয়। পরে ২০২০ সালে জরিপ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিতাস ২৮ নম্বর কূপের খনন শুরু হয়। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীরতায় কূপটির খননকাজ শেষ হয় গত ২৭ মে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি কূপটি খনন করে। এরপর গত ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

একই ‘সি’ লোকেশনে তিতাস ২৯ নম্বর কূপের খননকাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে কূপটির আনুষঙ্গিক কারিগরি কাজ চলছে। ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতার এ কূপ খননেও প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এখান থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া ‘সি’ লোকেশনেই তিতাস ৩০ নম্বর কূপের খননকাজ আগামী দেড় মাসের মধ্যে শুরু করার কথা রয়েছে। কূপটি প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীর হবে এবং খনন শেষ করতে আনুমানিক সাড়ে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় তিতাস ৩১ নম্বর কূপের খননকাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতার এ কূপকে দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিতাস ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না বলেন, ২৮ নম্বর কূপ থেকে আপাতত দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। ২৯ নম্বর কূপ থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। কূপটিতে ভালো চাপ পাওয়ার আশা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিতাস ৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদুল নবাব বলেন, কূপটি দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ এবং এটি উচ্চচাপ ও উচ্চতাপসম্পন্ন। বড় ধরনের জটিলতা না হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এ কূপ থেকেও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিতাস ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে প্রতিটি দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট করে মোট ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। এই গ্যাসের পরিমাণ দেশের মোট চাহিদার তুলনায় বড় না হলেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, দেশীয় উৎস থেকে এই গ্যাস পাওয়া গেলে এলএনজি আমদানির ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। তিতাস ২৮ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সেই উদ্যোগেরই অংশ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এ ধরনের ধারাবাহিক উদ্যোগ ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে সহায়তা করবে। তিতাস ২৮ নম্বর কূপের গ্যাস সরবরাহ দেশের জ্বালানি পরিস্থিতিতে স্বস্তি আনতে ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD