Logo

১০ মাসের সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি আগস্টে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯
১০ মাসের সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি আগস্টে
ছবি : জনবাণী গ্রাফিক্স

দেশে কয়েক মাস ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির পর মূল্যচাপ কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। টানা তৃতীয় মাসে কমে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৭ শতাংশের ঘরে নেমে আসায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে এটি কমেছে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। এর আগে জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ মে মাসের সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে তিন মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ থেকে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হলেও এপ্রিলে আবার বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ হয়। মে মাসে তা সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে ওঠে। এরপর জুনে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সর্বশেষ আগস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কমে আসাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে টানা দ্বিতীয় মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও তা নিচে রয়েছে।

গ্রাম ও শহর—দুই এলাকাতেই আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে। গ্রামীণ এলাকায় জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমে তা দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশে।

বাজারে পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগও মূল্যচাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ওএমএস সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তুলনামূলক কম দামে আমদানি করা কিছু নিত্যপণ্য ভর্তুকি ছাড়াই বাজারে বিক্রির নতুন উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এসব পদক্ষেপের প্রভাবে মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। আগস্টে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে আসা সেই লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতির একটি পরিসংখ্যানগত ইঙ্গিত। তবে মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; এর অর্থ হলো আগের তুলনায় দাম বাড়ার হার কমেছে। তাই খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে মূল্যচাপ আরও কমানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

টানা তিন মাস মূল্যস্ফীতি কমে গত ১০ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসা অর্থনীতিতে মূল্যচাপ প্রশমনের একটি লক্ষণ। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের ঘরে নামায় নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রবণতা কতটা স্থায়ী হয়, তা নির্ভর করবে বাজারে পণ্যের সরবরাহ, আমদানি পরিস্থিতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD