ই-রিটার্নে নতুন রেকর্ড, অনলাইনে দাখিল ৪৭ লাখ

২০২৫–২০২৬ করবর্ষে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তি ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে সফলভাবে তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। ডিজিটাল করসেবার প্রতি করদাতাদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রেক্ষাপটে এবার সাধারণ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২২ জুলাই) থেকে নতুন করবর্ষের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুবিধা চালু করেছে এনবিআর। এ উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিবের সভাপতিত্বে একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, ২০২১ সালে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর পর থেকে ধীরে ধীরে এটি করদাতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সর্বশেষ ২০২৫–২০২৬ করবর্ষে প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এই ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় অনলাইনভিত্তিক করসেবাকে আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সব সাধারণ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাকে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে কাগজে বা পেপার রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যেসব করদাতা পেপার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন—৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক, প্রয়োজনীয় সনদপত্রধারী শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক, মৃত করদাতার প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক।
এ ছাড়া, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে যারা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন না, তারা সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন নিয়ে কাগজে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।
করদাতারা এনবিআরের ই-ট্যাক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দিতে পারবেন। একই প্ল্যাটফর্মে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে কর পরিশোধের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এনবিআর জানিয়েছে, অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পরপরই করদাতারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র এবং আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া রিটার্ন দাখিলে কোনো সমস্যা হলে অফিস চলাকালীন সময়ে এনবিআরের কল সেন্টারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণাও দিয়েছে এনবিআর। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে নিট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর-সুবিধা দেওয়া হবে। তবে এই প্রণোদনার সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, ডিসেম্বরের পর আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে এই প্রণোদনা পাওয়া যাবে না। বরং বিলম্বে রিটার্ন জমা দেওয়ার কারণে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হতে পারে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য সব করদাতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।








