Logo

প্রথমবার রিটার্নে ন্যূনতম আয়কর এক হাজার টাকা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৫৮
প্রথমবার রিটার্নে ন্যূনতম আয়কর এক হাজার টাকা
ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও নতুন করদাতাদের জন্য ন্যূনতম আয়করে বিশেষ ছাড় বহাল রেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দাখিলকারীদের ন্যূনতম কর দিতে হবে মাত্র এক হাজার টাকা। অন্যদিকে, আগের করদাতাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম করের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এনবিআরের এ সিদ্ধান্তের ফলে নতুন করদাতারা রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ধারী রয়েছেন। তবে প্রতি বছর তাঁদের মধ্যে মাত্র ৪০ থেকে ৪২ লাখ ব্যক্তি আয়কর রিটার্ন জমা দেন।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে বার্ষিক সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত ছিল, এখন সেই সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ বছরে চার লাখ টাকার বেশি করযোগ্য আয় হলেই আয়কর প্রযোজ্য হবে।

বিজ্ঞাপন

নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী, করমুক্ত সীমা অতিক্রম করার পর প্রথম তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এর পরবর্তী চার লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরের পাঁচ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, এরপরের ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং এর বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কারও বার্ষিক আয় যদি চার লাখ ২০ হাজার টাকা হয়, তাহলে কর হিসাব হবে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকার ওপর। ১০ শতাংশ হারে এ করের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার টাকা। কিন্তু পুরোনো করদাতাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম করের বিধান অনুযায়ী পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে, একই পরিমাণ আয় থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি প্রথমবার আয়কর রিটার্ন জমা দেন, তাহলে তাঁকে মাত্র এক হাজার টাকা ন্যূনতম কর দিলেই চলবে।

এনবিআর জানিয়েছে, নতুন করদাতাদের কর ব্যবস্থায় যুক্ত করতে এবং কর প্রদানে আগ্রহ বাড়াতে এ সুবিধা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে নতুন অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়মেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট মৌসুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বছরের যেকোনো সময় রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে সব করদাতাকেই অনলাইন পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

রিটার্ন দাখিলের সময়ের ওপর ভিত্তি করে করদাতাদের জন্য প্রণোদনা ও অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ কর ছাড় পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে কোনো অতিরিক্ত ছাড় বা প্রণোদনা মিলবে না। এ সময় করদাতাকে কেবল নির্ধারিত কর পরিশোধ করলেই হবে।

তবে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা তিন হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। আর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা পাঁচ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের শুরুতেই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা যেমন কর ছাড়ের সুবিধা পাবেন, তেমনি বছরের শেষ দিকে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতাও থাকবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD