Logo

নতুন আয়কর কাঠামোয় বাড়ছে মধ্যবিত্তের চাপ, স্বস্তিতে ধনীরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৮
নতুন আয়কর কাঠামোয় বাড়ছে মধ্যবিত্তের চাপ, স্বস্তিতে ধনীরা
ছবি: সংগৃহীত

চলতি অর্থবছরের নতুন আয়কর কাঠামোয় করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হলেও পরবর্তী করস্লাবে করহার দ্বিগুণ করায় নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের একটি বড় অংশের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সময়ে সর্বোচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখায় উচ্চ আয়ের করদাতারা আপাতত কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন বলেও বিশ্লেষকদের অভিমত।

বিজ্ঞাপন

আয়কর হলো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়ের ওপর আরোপিত প্রত্যক্ষ কর। সাধারণভাবে যার আয় যত বেশি, তার করের হারও তত বেশি হয়। প্রতি অর্থবছরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় করমুক্ত রাখা হয়, যাতে স্বল্প আয়ের মানুষ করের বাইরে থাকতে পারেন।

নতুন বাজেটে সরকার করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে। অর্থাৎ বছরে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হলে কোনো আয়কর দিতে হবে না। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও পরবর্তী করস্লাবের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, করমুক্ত সীমা অতিক্রম করার পরবর্তী ৩ লাখ টাকার আয়ের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। অথচ সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে করমুক্ত সীমার পরবর্তী ১ লাখ টাকার ওপর করহার ছিল ৫ শতাংশ। ফলে দ্বিতীয় ধাপেই করহার দ্বিগুণ হওয়ায় অপেক্ষাকৃত কম ও মধ্যম আয়ের অনেক করদাতার করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতিবিদদের মতে, করমুক্ত সীমা বাড়ানোর ফলে কিছু মানুষ উপকৃত হলেও নতুন করস্লাবের কারণে করযোগ্য আয়ের পরিমাণ বাড়লেই অতিরিক্ত করের মুখোমুখি হতে হবে। এতে বিশেষ করে চাকরিজীবী ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, করমুক্ত সীমা বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া। তবে নতুন কর কাঠামোর কারণে বাস্তবে বিপুলসংখ্যক করদাতা বাড়তি চাপের মধ্যে পড়তে পারেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সর্বোচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে করহার ছিল ৩০ শতাংশ এবং নতুন অর্থবছরেও সেই হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও পরবর্তী অর্থবছর থেকে সর্বোচ্চ করহার ৩৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বর্তমান অর্থবছরে উচ্চ আয়ের করদাতারা কার্যত আগের করহারেই সুবিধা পাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

নতুন বাজেটে একদিকে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে করের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চলতি অর্থবছরে আরও বড় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও করব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত, যাতে মূল্যস্ফীতির সময় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়। নতুন আয়কর কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর এর বাস্তব প্রভাব আগামী মাসগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD