Logo

আয়কর রিটার্ন অডিটে নাম আসা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জুলাই, ২০২৬, ১৭:২৭
আয়কর রিটার্ন অডিটে নাম আসা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু?
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আয়কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৩-২৪ করবর্ষের আরও প্রায় পাঁচ হাজার আয়কর রিটার্ন স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিরীক্ষার (অডিট) জন্য নির্বাচন করেছে। জুন মাসের শেষ দিকে প্রকাশিত এই তালিকার মাধ্যমে অডিটের আওতায় থাকা করদাতাদের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি কর ফাঁকি রোধ এবং কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার একটি নিয়মিত প্রশাসনিক উদ্যোগ। তাই তালিকায় নাম এলেই উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে প্রথম ধাপে র‌্যান্ডম পদ্ধতিতে ১৫ হাজার ৪৯৪টি রিটার্ন এবং চলতি বছরের এপ্রিলে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৭২ হাজার ৩৪১টি রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল। নতুন তালিকা যুক্ত হওয়ায় নির্বাচিত করদাতাদের পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় নোটিশ পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এনবিআর জানিয়েছে, যাদের রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়েছে, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী শুনানিতে ডাকা হবে। কোনো অতিরিক্ত কর নির্ধারণের প্রয়োজন হলে শুনানি শেষে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

এরই মধ্যে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত করদাতার প্রতিনিধিসহ কয়েকটি শ্রেণিকে এই বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এক কোটিরও বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। এর মধ্যে সদ্য সমাপ্ত করবর্ষে ৪২ লাখের বেশি ব্যক্তি রিটার্ন জমা দিয়েছেন। তবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অডিটের জন্য রিটার্ন নির্বাচন শুরু হওয়ায় অনেক করদাতার মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্বেগের বড় কারণ অতীতে কর প্রশাসনে নানা ধরনের অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ। তবে নতুন ব্যবস্থায় মানবীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই সফটওয়্যারের মাধ্যমে রিটার্ন নির্বাচন করা হচ্ছে, ফলে স্বচ্ছতা অনেকটাই বেড়েছে।

আইন অনুযায়ী, টিআইএনধারীদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হলেও সবার কর পরিশোধ করতে হয় না। করযোগ্য আয় না থাকলে শুধু রিটার্ন জমা দিলেই আইনগত দায়িত্ব পালন করা হয়।

ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা এ কে এম হেদায়েত উল ইসলাম জানান, তিনি ইতোমধ্যে অডিটের জন্য নির্বাচিত হওয়ার নোটিশ পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাকে শুধু বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ব্যাখ্যা চাইলে তিনি তা প্রদান করবেন বলে জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম নোটিশের পর প্রয়োজনে করদাতার কাছে অতিরিক্ত তথ্য, দলিল বা ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। এরপর শুনানির মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। শুনানিতে করদাতা নিজে অথবা তার মনোনীত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারবেন।

আয়কর রিটার্ন অডিট নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই নিরীক্ষার মূল লক্ষ্য কর ফাঁকি ও কর পরিহারের প্রবণতা কমানো, কর আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং কর সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে কোথায় কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, সেটিও শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, রিটার্নে ভুল থাকলেও তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কর পরিশোধেরও সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে নিরীক্ষা মানেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; বরং এটি একটি যাচাই প্রক্রিয়া।

রিটার্নে ব্যক্তিগত আয়, ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, ডিবেঞ্চার, স্থাবর সম্পদসহ সব ধরনের সম্পদের সঠিক তথ্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। কোনো সম্পদের তথ্য গোপন করা হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এতদিন অনেক ক্ষেত্রেই কর্মকর্তারা হাতে-কলমে রিটার্ন নির্বাচন করতেন। এতে হয়রানির অভিযোগও ছিল। এখন পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সফটওয়্যারভিত্তিক হওয়ায় সেই অভিযোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অডিট ও আয়কর আইন বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রিটার্ন নির্বাচন করায় স্বচ্ছতা বেড়েছে। ই-রিটার্ন চালুর ফলে নথি হারিয়ে যাওয়া বা গোপন করার সুযোগও কমেছে। তার মতে, সঠিকভাবে রিটার্ন দাখিলকারী করদাতাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

তবে তিনি মনে করেন, নিরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াটি যদি অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়, তাহলে করদাতাদের হয়রানির আশঙ্কা আরও কমবে। তার ভাষ্য, নথি চাওয়া থেকে শুরু করে শুনানি পর্যন্ত সব কার্যক্রম ডিজিটাল হলে কর প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নিয়মিত ও স্বচ্ছ অডিট ব্যবস্থা চালু থাকলে কর ফাঁকির প্রবণতা কমবে, রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং দেশের কর ব্যবস্থাও আরও আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD