Logo

৮০ লাখ করদাতাকে নোটিশ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২০:৪৪
৮০ লাখ করদাতাকে নোটিশ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর
ছবি: সংগৃহীত

দেশে নিবন্ধিত করদাতাদের মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ ই-টিআইএনধারী এখনও আয়কর রিটার্ন জমা দেননি। এসব নন-ফাইলারকে চিহ্নিত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করে কর প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সভায় দেশের তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের বিভিন্ন শীর্ষ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে দেশে ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ। এর মধ্যে আনুমানিক ৫০ লাখ করদাতা চলতি করবর্ষে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। বাকি যারা এখনও রিটার্ন জমা দেননি, তাদের তথ্য ই-টিআইএন এবং ই-রিটার্ন ডাটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হবে। এরপর নন-ফাইলারদের কাছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নোটিশ পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, নোটিশ পাওয়ার পরও যদি কেউ রিটার্ন দাখিল না করেন, তাহলে পরবর্তী ধাপে কর কর্মকর্তারা তাদের আয়-ব্যয়ের তথ্য যাচাই করবেন। এর মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধের পাশাপাশি করদাতাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অডিট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এনবিআর ইতোমধ্যে ম্যানুয়াল নির্বাচন পদ্ধতি পুরোপুরি বন্ধ করেছে। এখন ঝুঁকিভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় অডিট নির্বাচন পদ্ধতি চালু হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথম ধাপে প্রায় ১৫ হাজার করদাতাকে র‌্যান্ডম ভিত্তিতে অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে আরও ৬০ হাজারের বেশি করদাতা এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

এনবিআর চেয়ারম্যানের ভাষ্য, নতুন এই অডিট পদ্ধতিতে কোনো ধরনের ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ নেই। সম্পূর্ণ সিস্টেম-নির্ভর নির্বাচন হওয়ায় অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হবে।

বিজ্ঞাপন

ভ্যাট ব্যবস্থাপনাতেও একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কার আনা হচ্ছে। বর্তমানে ২০টি নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে ৬০০টি প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। বৃহৎ করদাতাদের ক্ষেত্রে যৌথ অডিট চালু করা হয়েছে, যেখানে ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা একসঙ্গে কাজ করবেন।

তিনি আরও বলেন, দেশে খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট নিবন্ধনের পরিধি এখনও খুব সীমিত। বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ লাখেরও কম, যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। এ কারণে ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নিবন্ধনের আওতা বাড়াতে আইনগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নতুন ভ্যাটদাতাদের জন্য প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ছোট ব্যবসায়ীদের প্রতি মাসে রিটার্ন জমা দিতে নাও হতে পারে; বরং বছরে নির্ধারিত পরিমাণ ভ্যাট পরিশোধ করলেই দায়িত্ব সম্পন্ন হবে। মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সহজেই ভ্যাট পরিশোধ করা যাবে।

বিজ্ঞাপন

কর ফাঁকি, ভ্যাট ফাঁকি এবং বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে উৎপাদন পর্যায়ে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিটি উৎপাদন ইউনিটকে কিউআর কোড বা অনুরূপ ডিজিটাল শনাক্তকরণ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। প্রাথমিকভাবে তামাকজাত পণ্যে এ ব্যবস্থা চালু হলেও পরে বোতলজাত পানি, কোমল পানীয়, সাবান, শ্যাম্পু এবং প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যেও এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

সাধারণ জনগণকেও কর ফাঁকি প্রতিরোধে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভোক্তারা মোবাইল ফোন দিয়ে পণ্যের কিউআর কোড স্ক্যান করে যাচাই করতে পারবেন, পণ্যটি যথাযথ কর পরিশোধ করে বাজারে এসেছে কি না। কেউ অনিয়মের তথ্য দিলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে, কর ফাঁকিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

বিজ্ঞাপন

এনবিআর মনে করছে, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা গড়ে উঠলে করদাতাদের হয়রানি কমবে, করের আওতা বাড়বে এবং নিয়মিত করদাতাদের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD