লিজের আওতায় পুনরায় চালু হচ্ছে বন্ধ পাটকল, জানালেন পাটমন্ত্রী

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে লিজভিত্তিক ব্যবস্থাপনার পথে হাঁটছে সরকার। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব পাটকল চালুর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন ১৪টি বন্ধ পাটকল লিজ দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এসব পাটকল বর্তমানে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বজ্রপাতে সারাদেশে ১২ জনের মৃত্যু
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, আরও ৬টি পাটকল লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পাটশিল্পে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছে সরকার।
নরসিংদী জেলার তিনটি পাটকলও এই পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এর মধ্যে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেড এবং ইউএমসি জুট মিলস লিমিটেড ইতোমধ্যে লিজের মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডে প্রতিদিন প্রায় ৪০ মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ইউএমসি জুট মিলস লিমিটেডে বর্তমানে সোয়েটার উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই দুই কারখানায় সম্মিলিতভাবে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ শ্রমিক কাজ করছেন।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া, নরসিংদীর আরেকটি বন্ধ পাটকল কো-অপারেটিভ জুট মিলস লিমিটেড-কেও লিজের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এটিও পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিজভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় বন্ধ পাটকল পুনরায় চালু করা হলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরতে পারবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
বিজ্ঞাপন
সরকারের এই উদ্যোগ পাটশিল্পের আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








