৯০–১০০ টাকা কেজি তরমুজ, বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার আকাল

রমজান মাসকে সামনে রেখে রাজধানীর ফলের বাজারে তরমুজের উপস্থিতি এখনও সীমিত। বর্তমানে বাজারে যেসব তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো মূলত বারোমাসি জাতের বা সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত তরমুজ, যা স্বাদ ও মানের দিক থেকে মৌসুমি তরমুজের মতো নয় বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা ও ক্রেতারা। দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও কম দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজের বিক্রি খুবই ধীরগতিতে চলছে। রামপুরা, ঢাকা এলাকায় একটি ফলের দোকানে তরমুজের দরদাম শুনে অনেক ক্রেতা কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
বেসরকারি চাকরিজীবী খোরশেদ আলম জানান, দোকানে তরমুজ দেখে কৌতূহলবশত দাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। প্রতি কেজি তরমুজের দাম ১০০ টাকা বলা হলেও পরে ৯০ টাকায় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। তবে ছোট আকারের একটি তরমুজ কিনতেও বড় অঙ্কের টাকা লাগবে—এ কারণে তিনি এখন কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুন: দুই দফা পতনের পর আবারও বাড়ল সোনার দাম
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, এখন বাজারে মৌসুমি তরমুজ আসা শুরু হয়নি। বর্তমানে যেসব তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর স্বাদ তুলনামূলক কম এবং দাম বেশি। সাধারণ মানুষ এত দামে তরমুজ কিনতে আগ্রহী নয়। ফলে ফুটপাত ও দোকানগুলোতে তরমুজ বিক্রি কম হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয়কেন্দ্র গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড-এর ফুটপাতে ছোট-বড় তরমুজ সাজিয়ে রাখা হলেও ক্রেতার উপস্থিতি খুব কম দেখা গেছে। অফিসফেরত কয়েকজন পথচারী দাম জানতে চাইলেও বেশিরভাগই তরমুজ না কিনে চলে গেছেন।
সেখানে তরমুজ বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে তরমুজ কিনে আনতে হয়েছে। রমজান মাসে তরমুজের চাহিদা বাড়বে—এমন ধারণা থাকলেও এখন পর্যন্ত ক্রেতা খুবই কম। বর্তমানে বাজারে সিলেট অঞ্চলের তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে এবং কেজিপ্রতি দাম ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে রাখা হচ্ছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: রোজার প্রথম শুক্রবারে মাছ–মাংসের চড়া দাম
বিক্রেতারা বলছেন, সাধারণত রমজানের ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে বাজারে মৌসুমি তরমুজ আসতে শুরু করে। তখন সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা দুই-ই বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মৌসুমি তরমুজ বাজারে এলে স্বাদও উন্নত হবে এবং দামও কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে গুলশান ডিসিসি মার্কেট সংলগ্ন বাজার থেকে তরমুজ কিনেছেন আফতাব উদ্দিন নামের এক ক্রেতা। তিনি জানান, মেয়ের ইফতারের জন্য বাধ্য হয়ে ৯০ টাকা কেজি দরে তরমুজ কিনেছেন। নিজের ইচ্ছায় এত দামে অসময়ের তরমুজ কিনতে চাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ক্রেতাদের অনেকেই মনে করছেন, মূল মৌসুমি তরমুজ বাজারে এলে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কিছুটা সহনীয় হবে। তখন সাধারণ মানুষের জন্য তরমুজ কেনা সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।








